রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কেএমপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পানিতে তলিয়ে গেল রাস্তা, জাল ফেলতেই ধরা পড়ল প্রচুর মাছ অবশেষে যুগান্তকারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিলে বাইডেনের স্বাক্ষর ভিনিসিয়াস আমার ভাইয়ের মত: রোদ্রিগো – স্পোর্টস প্রতিদিন শরণখোলায় পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন উপলক্ষ্যে নানা অয়োজনে উৎসব পালন শরণখোলায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল এসএসসি পরীক্ষার্থী হুট করে ফরিদপুরের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কুমিল্লাবাসী বললো, ‘ফার্স্ট টাইম?’ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত

খুলনায় শয্যার পর অক্সিজেন সংকট

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
খুলনায় শয্যার পর অক্সিজেন সংকট

0 স্টাফ রিপোর্টার

দেশে করোনার নতুন ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে খুলনা। প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মৃত্যু বাড়ছে। শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের দেরিতে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তখন তাঁদের চিকিৎসা দেওয়ার আর বেশি সময় হাতে থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে শয্যাসংকটের পাশাপাশি অক্সিজেনের সংকটও দেখা দিচ্ছে। সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। বিভাগীয় শহর খুলনায় এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে তিনটি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনার আশপাশের জেলাসহ বিভাগের প্রায় সব জেলার রোগীই এসব হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অক্সিজেনের প্রয়োজন, এমন অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। গতকাল ৩টি হাসপাতালের ৩০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিলেন ৩১৬ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ‘ডেলটা ভেরিয়েন্টের মনোভাবই আগ্রাসী। ঘরে ঘরে জ্বর। তারপরও কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না তারা করোনায় আক্রান্ত কি না। আর এবার রোগীরা আসছে অনেক দেরিতে। খারাপ অবস্থায় আসছে। হাসপাতালে আসতে কেন জানি ভয় পাচ্ছে। আবার নিজেরা প্রকাশ করতে চাইছে না। রোগীরা যদি শুরুতে আসে, তাহলে আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দিতে পারি।’ খুলনা বিভাগে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে। তবে চলতি জুনের শুরু থেকেই সংক্রমণ মৃত্যু বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার ৩টি হাসপাতালে করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৮১ জন এবং মোট শনাক্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ১৬৭ জন। খুলনা অক্সিজেন ব্যাংক নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে খুলনার মানুষকে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন। এখন তাঁদের ছয়জনের একটি দল প্রতি রাতেই খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে অবস্থান করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের একজন মো. আসাদ শেখ বলেন, ‘সব শয্যায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় অনেক রোগীর জন্য সিলিন্ডারের অক্সিজেন লাগে। কিন্তু গভীর রাতে বা ভোরের দিকে অনেক সময় অক্সিজেন থাকছে না। অক্সিজেনের প্রচুর সংকট আছে। আমাদের নিজেদের ২০০ সিলিন্ডার আছে। আমরাও চাহিদামতো জোগান পাচ্ছি না।’ নাম প্রকাশ না করে করোনা হাসপাতালের এক রোগীর স্বজন বলেন, রাতে তাঁর বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮৫-তে নেমে আসে। অক্সিজেন চলছিল। তবে অক্সিজেন শেষ হয়ে আসতে থাকায় পরের দিকে ফ্লো কমিয়ে দেওয়া হয়। এই সমস্যা অনেকের। আবার হাসপাতালে প্রায়ই ফ্লো মিটারের সংকট দেখা যায়। ফ্লো মিটারের পোর্টেরও সমস্যা আছে। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ১৩০ শয্যার মধ্যে ৭৭টি শয্যায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের ব্যবস্থা আছে। বাকিগুলোয় সিলিন্ডারে কাজ চলে। অক্সিজেনের সরবরাহ এখনো ঠিক আছে। তবে প্রচুর রোগীর চাপ আছে। ফ্লো মিটার পাওয়া গেছে, আপাতত ওই সংকট নেই। আরও একটা অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালুর অপেক্ষায় আছে। চালু হলে অক্সিজেনের কোনো রকম সংকট হবে না। খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট প্রকট। ১০০ শয্যার ওই হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই। শয্যা খালি না থাকা অক্সিজেন সংকটের কারণে অনেকের ভর্তি নিতে পারছে না গাজী মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। অক্সিজেন সংকট নিয়ে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মালিক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, তাঁদের এখানে ভর্তি রোগীদেরই ঠিকমতো অক্সিজেন সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আবার অনেকে ফোন দিচ্ছেন, অথচ অক্সিজেন সংকটের কারণে ভর্তি নিতে পারছেন না তাঁরা। সামনে রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকছে। স্পেকট্রা তাঁদের অক্সিজেন সরবরাহ করে। তারা মাঝেমধ্যে অক্সিজেন আনতে অনেকটা দেরি করে ফেলছে। তাঁদের প্রায় ১৫০টি সিলিন্ডার। একটা সময় পর সেগুলোর চাপ কমে আসে। তখন অক্সিজেন পৌঁছাতে দেরি হলে সে সময় অনেক ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৭০ শয্যার করোনা ইউনিটের মুখপাত্র কাজী আবু রাশেদ বলেন, ‘এখানে আইসিইউ এইচডিইউ কোনোটাই নেই। তবে সব শয্যায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন আছে। এখন পর্যন্ত সংকট নেই। ট্যাংক খালি হলে যদি স্পেকট্রা দিতে না পারে, তখন সংকট হতে পারে। আমরা চাহিদার কথা আগেই জানিয়ে রাখি।’ স্পেকট্রার খুলনা বিভাগীয় ভান্ডার কর্মকর্তা সজীব রায়হান বলেন, ‘হঠাৎ করে রোগী বেড়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। আর স্থানীয়ভাবে তা কয়েক গুণ বেড়েছে। যাঁরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁরা বাসায় বসে চিকিৎসার জন্য সিলিন্ডার নিচ্ছেন। এই চাপ অনেক। আমরা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’


Post Views:
13



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102