রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

খুলনার গ্রামাঞ্চলে আক্রান্ত মানুষ সাপোর্ট পাচ্ছেন না

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ১৪
খুলনার গ্রামাঞ্চলে আক্রান্ত মানুষ সাপোর্ট পাচ্ছেন না

০ স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার গ্রামগঞ্জ পাড়া-মহল্লায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সিজনাল সর্দি-জ্বরের সঙ্গে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে শহরে ছুটছেন তারা। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শহরে তারা ন্যূনতম সাপোর্টও পাচ্ছেন না। এদিকে খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সময়ে হাজার ৪৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

২১ জুন কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের শেখ আবুল কালাম আজাদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করিয়ে এর রেজাল্ট পান। দুই দিনের মধ্যে তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে ৭৫-নেমে আসে। দুই দিনেও তিনি অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করতে পারেননি। জেলা সদর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পার করে স্বজনরা একটি সিলিন্ডার নিয়ে যান গ্রামে। অবস্থা আরও বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন ২৭ জুন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার ভাই পাইকগাছা কলেজের প্রফেসর আবু সাইদ বলেন, গ্রাম পর্যায়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে ন্যূনতম সেবা পাচ্ছেন না। না চিকিৎসাসেবা, না আনুষঙ্গিক সাপোর্ট। আক্রান্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে সঙ্গে সঙ্গে শহরে না আনলে মৃত্যু নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত হওয়ার সার্টিফিকেট পেতেই তার ভাইকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে সার্টিফিকেট না নিলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতেও পারছেন না চিকিৎসকরা।

গ্রামে করোনার ভয়াবহতা যত বাড়ছে, মানুষের দুর্ভোগও তত বাড়ছে। সিভিল সার্জনের অফিস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনায় করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ৯টি উপজেলার মধ্যে ফুলতলা উপজেলায় সংক্রমণের হার এগিয়ে। শহরের পাশে উপজেলার অবস্থান হওয়ায় এখানকার সংক্রমণের হারও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফুলতলা উপজেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০২ জন। আর সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে রূপসা উপজেলা।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, জুনের প্রথম থেকে খুলনায় করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রামে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ মৃত্যুহার আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় করোনার চিকিৎসা চলবে। তবে যে ধরনের সাপোর্ট দরকার, তা সেখানে নেই। ফলে সিরিয়াস রোগীদের কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতালের সাপোর্ট প্রয়োজন। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুদীপ কুমার বালা বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত রোগী বেশি আসছেন। তাদের কোভিড পরীক্ষা করাতে বললে তারা তা করছেন না। তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত থাকলেও চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সংক্রমণ বাড়ছে।

প্রতিদিন খুলনা বিভাগ করোনা শনাক্ত মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিভাগে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সময় নতুন করে রেকর্ড হাজার ৪৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত খুলনায় করোনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে শনাক্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা ডা. সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ছয়জন, মেহেরপুরে চারজন, ঝিনাইদহে চারজন, চুয়াডাঙ্গায় দুজন, বাগেরহাটে দুজন, যশোরে একজন, সাতক্ষীরার একজন এবং নড়াইলে একজন মারা গেছেন। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলার ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনা জেলা মহানগরীতে ৭৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৯৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৪০ শতাংশ।


Post Views:
24



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102