রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ, একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ২৭
কিশোরগঞ্জে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ, একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ৪ জুলাই ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেই চলেছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ শনিবার (৩ জুলাই) রাতে প্রকাশিত রিপোর্টেও সংক্রমণের উর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিনই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ রিপোর্টে জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ১১২ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে জেলায় এদিন সুস্থ হয়েছেন মোট ৩৮ জন। এছাড়া জেলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে আরো একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। শনিবার (৩ জুলাই) বেলা ১টার দিকে তিনি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা আরো ৭৩ জন বেড়েছে। আগের দিন শুক্রবার (২ জুলাই) জেলায় বর্তমান আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ৮৮৪ জন। ফলে শনিবার (৩ জুলাই) বর্তমান রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৯৫৭ জন।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ১১২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাকি ৫৪ জনের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলার ৫ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১১ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১৩ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১ জন, ভৈরব উপজেলায় ১৪ জন, বাজিতপুর ‍উপজেলায় ১ জন, ইটনা উপজেলায় ১ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন শনাক্ত হয়েছে।

ফলে শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে শীর্ষে থাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় বর্তমান মোট রোগী ৯৫৭ জনের মধ্যে ৬৩৩ জনই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৬১৪ জন।

এছাড়া জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৯১ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এক উপজেলা বর্তমানে করোনাশূন্য থাকায় বাকি ১১ উপজেলা মিলিয়ে বর্তমান রোগীর সংখ্যা ৩২৪ জন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে হাসপাতালটির প্রি-আইসোলেশনে ভর্তিকৃত জরুরী রোগীসহ বুধবার (৩০ জুন), বৃহস্পতিবার (১ জুলাই), শুক্রবার (২ জুলাই) ও শনিবার (৩ জুলাই) সংগৃহীত মোট ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৪ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার শতকরা ৫৫ ভাগ। যা আগের দিন ছিল শতকরা ৪৫ ভাগ। এ রিপোর্টে মোট ২৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে। বাকি ৮৯ জনের মধ্যে ৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে। সেখানে শুক্রবার (২ জুলাই) এই ৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এছাড়া পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ২ জনেরই কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। নতুন সুস্থ হওয়া ৩৮ জনের সবাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার। কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৩ জন যাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৬২৬১ জন শনাক্ত, ৫২১৩ জন সুস্থ এবং ৯১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ৯৫৭ জন। তাদের মধ্যে ৭০ জন হাসপাতাল ও ৮৮৭ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ৯৫৭ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬৩৩ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ১৪ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ২৯ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২৪ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৩৬ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৬৪ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৩২ জন, ভৈরব উপজেলায় ৮৬ জন, নিকলী উপজেলায় ৬ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২২ জন, ইটনা উপজেলায় ৯ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ২ জন রয়েছেন।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১২১২ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় কেউ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেননি। কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এআইআ/এইচি




Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102