মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

খুলনায় নাপার পেছনে ছুটছে মানুষ

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ২৩
খুলনায় নাপার পেছনে ছুটছে মানুষ

খুলনা অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে খুলনায় বেড়েছে জ্বর, সর্দি, কাশির রোগী। ফলে চাহিদা বেড়েছে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের। আর এই সময়ে হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়েছে নাপা।

ফার্মেসিগুলোতে মিলছে না নাপা, নাপা এক্সট্রা, এক্সটেন্ড ও সিরাপ জাতীয় ওষুধ। দু-একটি ফার্মেসিতে মিললেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ওষুধ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা বলছেন, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছেন। আর ফার্মেসিতে বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি থেকেই নাপার সাপ্লাই নেই। নাপা ব্যতীত সব ধরনের ওষুধ মিলছে। নগরীর হেরাজ মার্কেট, খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনে ও খালিশপুসহ বেশকিছু এলাকার ফার্মেসি ঘুরে এমন চিত্রের দেখা মেলে।

ফার্মেসির মালিকরা জানায়, প্যারাসিটামলের মধ্যে নাপা, এইস, এক্সপা, ফাস্ট, টামেন, রেনোভা নামের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ রয়েছে। অথচ মানুষ নাপার প্রতি ঝুঁকছেন বেশি। নাপা ছাড়া অন্য ওষুধ নেবে না।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ওষুধের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর একটি ফন্দি এটা। যেই দেখেছে ওষুধের চাহিদা বেড়েছে তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

মেসার্স বাঁধন ফার্মেসির স্বত্বধিকারী মোবাশ্বির হোসেন বলেন, নাপা ওষুধের সংকট রয়েছে। কোম্পানি থেকেই নাপা, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সট্রেন্ড ও সিরাপ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কী কারণে তারা ওষুধ দিচ্ছে না, জানা নেই। অনেক খোঁজাখুজি করে একটি পাইকারি ফার্মেসি থেকে কিছু নাপা ট্যাবলেট এনেছি। তবে নাপা এক্সট্রা, এক্সআর পাইনি।

হেরাজ মার্কেটের সুমন মেডিকেল হলের সুমন বলেন, ১৫ জুন পর্যন্ত নাপা ছিল। চাহিদা বাড়ার কারণে নাপা সরবরাহ নেই। ১৫ দিন পর তিন দিন আগে একবক্স নাপা দিয়েছে। সাধারণ সময়ে প্যারাসিটামল যা বিক্রি হতো, তার চেয়ে ১০ গুণের বেশি চাহিদা বেড়েছে।

সুকতারা ফার্মেসির সাইফুল ইসলাম লালন বলেন, মার্কেটে প্যারাসিটামলের ব্যাপক চাহিদা। কোম্পানি ওষুধ দিতে পারছে না। মানুষের মধ্যে এক ধরনের রোগ হয়েছে, নাপা লাগবে তাদের। মানুষ বোঝে না অন্যগুলোও একই কাজ করে। কিন্তু অনেকেই নাপা ছাড়া অন্য ওষুধ নেবে না।

জয়া মেডিকেল হলের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সাদী বলেন, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। নাপা ওষুধ সরবরাহ নেই। নরমাল দিনে ২/৩ ফাইল সিরাপের চাহিদা ছিল। এখন সেই চাহিদা বেড়ে ৫০ ফাইলও বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সহ-সভাপতি ও খুলনা শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, মানুষের এখনই প্রয়োজন নেই, কিন্তু পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ কিনে রাখে। মানুষের নাপার প্রতি ঝোঁকটা বেশি। তবে কোনো ফার্মেসি এসব ওষুধ স্টক করেও রাখে না। প্যারাসিটামল খেতে বললে মানুষ নাপা কিনতে চাই।

খুলনা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, মানুষের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা জ্বর হলে শুধু নাপা খেতে হবে। কিন্তু অন্য কোম্পানিগুলোরও যে বিভিন্ন নামে প্যারাসিটামল ওষুধ আছে তা তাদের ধারণা কম। জ্বর হলে চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে তার মানে শুধু নাপা খেতে হবে তা নয়, ভালো মানের অন্য কোম্পানির প্যারাসিটামল খেলেই হবে।



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102