শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

লকডাউনের সময় যত বাড়ছে ততই অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ ‌

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ২৯
লকডাউনের সময় যত বাড়ছে ততই অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ ‌

পশ্চিম কোণের সূর্য তখন বিদায় নিয়েছে। ভাঙ্গাচোরা টিনের ঝুঁপড়িতে টিমটিমে বাতি জ্বলছে। ভেতরে মাটির মেঝেতে বসে আছেন বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়া নার্গিস-মান্নান দম্পতি। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। ঘরে খাবার না থাকায় গত সপ্তাহ পার করেছেন মুড়ি চিবিয়ে।

রহিমনগর এলাকার ষাটোর্ধ নার্গিস বেগম জানান, খুলনার বেলায়েতের ডকইয়ার্ডে কাজ করতেন তিনি। গত রমজানের লকডাউনের পর কাজ হারিয়েছেন। এখন খুব কষ্টে তার দিন কাটছে। একমাত্র সন্তান থাকে ঢাকায়। দশ বছরেও ছেলে খোঁজ নেয়নি তাদের।

অসুস্থ বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান এখন কর্মক্ষম। বয়স্ক ভাতার সামান্য কিছু টাকা আর স্ত্রীর ডকইয়ার্ডের দৈনিক হাজিরায় চলছিলো তাদের সংসার। কাজ বন্ধ হয়ে পড়ায় তাকে ধরতে হয়েছে ভিক্ষার ঝুঁলি। গত দু’দিন লকডাউনের মধ্যেই বের হয়েছেন ভিক্ষা করতে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, গতকাল পেয়েছেন মাত্র ৭০ টাকা। তাই দিয়ে কিনেছেন চাল-ডাল।

আব্দুল মান্নান জানান, বয়সের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত তিনি। একেতো আয়- রোজগার নেই অন্যদিকে ঘরভাড়া মাস গেলে আটশো টাকা। গত তিন মাসের ভাড়া বাকি রয়েছে। নিরুপায় হয়ে লজ্জা ভেঙ্গে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছেন। গত বছরের লকডাউনে ত্রাণ সহায়তা পেলেও এ বারে এখনো কোনো সাহায্য পায়নি তারা।

গত ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর লকডাউনের সময় আরো সাত দিন বাড়িয়েছে সরকার। লকডাউনের সময় যত বাড়ছে ততই অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

লকডাউনে কর্মহীন মানুষের জন্য রূপসা উপজেলা প্রশাসন ও এমপি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত উপজেলার রামনগর-রহিমনগর গ্রামের কর্মহীন, দিনমজুর অসহায়দের কাছে সে সহায়তা পৌঁছায়নি।

রহিমনগর কলোনির বাসিন্দা আসিফ মোল্লা জুতা তৈরীর কারিগর। তিনি জানান, লকডাউনে গত ১৫ দিন থেকে তার কাজ বন্ধ। পরিবারের পাঁচ সদস্যের মুখে খাবার তুলে দিতে হচ্ছে দোকানে ধার-দেনা করে।

একই এলাকার লালু মিয়া। পেশায় একজন বাদাম বিক্রেতা। লকডাউনের কারণে তারও ব্যবসা বন্ধ। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষটি এখন রয়েছে চরম বিপাকের মধ্যে।

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ দিন ব্যবসা বন্ধ, ঘরে কিছু নাই। আবার শুনছি আরো সাত দিনের লকডাউন দিছে। লকডাউন বাড়ালেও আমাদের দিকে কারো কোনো খেয়াল নেই। আমরা কি না খেয়ে মরবো?’

লালু মিয়ার মত এমন প্রশ্ন এ এলাকার সকল দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষের। রামনগর-রহিমনগর এলাকার অনেকে খুবই দরিদ্র। লকডাউনের কারণে অধিকাংশই কর্মহীন। অনেকের ঘরে খাবার নেই। অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করেছেন তারা। লজ্জায় চাইতেও পারেন না কারো কাছে। এমন অবস্থায় ত্রাণ সহায়তা তাদের হৃদয়ের নিশ্চুপ আকুতি।

খুলনা গেজেট/ টি আই



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102