সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

পাইকগাছা হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স সংকট, হিমশিমে চিকিৎসা সেবা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ২৪
পাইকগাছা হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স সংকট, হিমশিমে চিকিৎসা সেবা

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, ৮ জুলাই ২০২১

তৃপ্তি রঞ্জন সেন, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে: খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স সংকট দেখা দিয়েছে।স্বল্প সংখ্যার চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ঠদের। এদিকে নতুন করে করোনা ওয়ার্ড চালু হওয়ায় প্রতিনিয়ত সাধারন রোগীদের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনই চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ঠদের সাথে রোগীর স্বজনদের ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স পদায়নের দাবী জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ঠদের নিকট।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাইকগাছা উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ লোকের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর উপজেলা সদরে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। জনবহুল এ উপজেলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর ৩১ শয্যার হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করেন কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন বহিঃবিভাগে প্রায় দেড় দুই’শ সাধারণ রোগীর পদচারণা ঘটে। এরপর অন্তঃ বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী। সর্বশেষ চালু হয়েছে ১৫ বেডের করোনা ওয়ার্ড। এখানেই প্রায় প্রতিদিনই ১৪/১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকেন। সব মিলিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময়ই রোগী চাপ অনেক বেশী থাকে।

এদিকে রোগীর চাপ বেশী থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স কম থাকায় প্রতিনিয়িত রোগীর স্বজনের সাথে ঘটে নানান বিপত্তি। অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসক ও নার্সরা সময় মত রোগীর কাছে যান না। অনেক সময় আবার ডেকেও পাওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে এমনও নানা অভিযোগ পাওয়া যায় মাঝে মধ্যে। সুত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ২৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা।  কিন্তু আছে মাত্র ৮ জন চিকিৎসক। এছাড়া ৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থাপনা না থাকার কারনে নব সৃষ্টপদের ৪ জন চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে আবার ৫ জন করোনাকালিন সময়ে ডেপুটেশনে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকী ১২ জনের মধ্যে বর্তমানে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত। এই মুহুর্তে ৯ জন চিকিৎসক কাগজ কলমে থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে সব সময় ব্যস্ত থাকেন এবং একজন জুনিয়ার কনসালটেন্ট রয়েছেন। অপরদিকে ২৯ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। এরমধ্যে বর্তমানে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এরমধ্যে আবার লেবার ও আইসোলেশন ওয়ার্ড সম্পূর্ণ আলাদা রয়েছে। সেখানে আলাদা রোস্টার করে চালাতে হচ্ছে। সর্বপরি স্বল্প জনবল দিয়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানিয়েছেন, যে সমস্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন তাদের মধ্যে আবার ডাক্তার, নার্স ও এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। বর্তমানে স্বল্প জনবল দিয়েই ওয়ার্ড চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে যাতে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও ডেপুটেশনে যারা রয়েছেন তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে উপজেলায় ফেরত আনা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।




Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102