শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চালের বস্তায় নিষিদ্ধ পলিব্যাগের ব্যাবহার ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করায় রোগীর শরীরে জ্বালাযন্ত্রনা ফার্মেসী সিলগালা:পলাতক গ্রাম্য চিকিৎসক বাংলাদেশকে জানতে হলে আগে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে ….এমপি মিলন সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর নদীর পাড়ে শাড়ি পরে দুর্দান্ত ড্যান্স দিলো সুন্দরী যুবতী যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন – মোস্তাফা জব্বার – টেক শহর বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ফেবারিট মানছেন আর্জেন্টাইন তারকা – স্পোর্টস প্রতিদিন বিশ্ববাজারে আবারও কমল জ্বালানি তেলের দাম গর্তে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরটি দেখলো চাষী ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে

স্টক এক্সচেঞ্জ কি? – Priyocareer

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
স্টক এক্সচেঞ্জ কি? - Priyocareer
স্টক এক্সচেঞ্জ কি

শেয়ার বাজার কথাটির সাথে যারা পরিচিত, তারা সবাই কমবেশি স্টক এক্সচেঞ্জ কি এটা জানেন। সাধারনত কোন কোম্পানির শেয়ার যেখানে ক্রয় বিক্রয় করা হয়ে থাকে, সেই স্থানকে স্টক এক্সচেঞ্জ বলা হয়।

যদিও বর্তমানে, শেয়ার ব্যবসায়ের অবস্থ খুব একটা ভাল নেই। কিন্তু, স্টক এক্সচেঞ্জ কি? এটা জানতে তো আর সমস্যা নেই। Stock Exchange সম্পর্কে ধারণা থাকলে স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ করাটাও সহজ হয়ে যায়।

আজকের এই লেখায় আমরা আলোচনা করবো স্টক এক্সচেঞ্জ কি এবং এই সম্পর্কিত আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর। অযথা, ভূমিকা লম্বা না করে, মূল আলোচনা শুরু করে দেয়া যাক।

স্টক এক্সচেঞ্জ কি?

স্টক হচ্ছে কোন একটি কোম্পানির শেয়ারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ। কোন একটি কোম্পানির কোন একটি অংশ যখন কেউ কিনে সেটা হচ্ছে স্টক। যেমন অনেক বড় একটা কোম্পানি যদি তার কোম্পানির ১০০ টা ক্ষুদ্র ভাগ করে, তখন তার কাছ থেকে যে কয়টা ভাগ কেনা হবে, সেগুলো হবে ক্রেতার স্টক।

বড় বড় কোম্পানির অনেক অনেক স্টক থাকে বাজারে, যেগুলো ক্রয় করে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা আয় করা যায়। সকল ধরনের স্টক এক্সচেঞ্জ এর কাজ পরিচালনা ও তদারকি করার জন্যই একটি প্রতিষ্ঠান থাকে। বাংলাদেশেও আছে। বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জ এর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ( বিএসইসি )।

বর্তমানে দেশে দুইটি স্টক এক্সচেঞ্জ আছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ইতিহাস

বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, যা ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত। ১৯৫৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি প্রথম শেয়ার কেনা বেচা শুরু করে ১৯৫৬ সালে। এরপর এটি ১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হয় এবং ব্রোকারদের দ্বারা মালিকানার অন্তর্ভূক্ত হয়।

Stock Exchange এর সদস্যদের ব্রোকার বলা হয়। শেয়ার বাজারের শেয়ার ক্রয় বিক্রয় নিজেরা করা যায় না। ব্রোকারদের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে হয়। ব্রোকাররা শেয়ার হোল্ডারদের প্রতিনিধি হয়ে, বিভিন্ন কমিশনের ভিত্তিতে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন।

দেশের অপর স্টক এক্সচেঞ্জ হলো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ যা ১৯৯৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় সেই বছরের ৪ নভেম্বর।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে বিভিন্ন বিধি বিধানের আলোকে পরিচালিত হয়ে থাকে।

সেগুলো নিম্নরূপ:

  • ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন এবং মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন
  • সিকিউরিটিস ও এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯
  • সিকিউরিটিস ও এক্সচেঞ্জ বিধি ১৯৮৭
  • এছাড়াও, এসইসি দ্বারা নির্ধারিত অন্য সব বিধি বিধানের আলোকে এটি পরিচালিত হয়ে থাকে।

স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা কমিটি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৫ জন। এই সদস্যরা সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এই ২৫ জন সদস্যের মধ্যে একজন হচ্ছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

বাকি ২৪ জনের মধ্যে ১২ জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়ে থাকে ব্রোকারদের মধ্য থেকে। আর বাকি ১২ জন নির্বাচিত করা হয়ে থাকে এক্সচেঞ্জের বাইরে থেকে। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভোট দেওয়ার কোন ক্ষমতা নাই। এই পরিচালনা বোর্ড গঠিত হয়ে থাকে তিন বছরের জন্য।

স্টক এক্সচেঞ্জ গুলো তিনটি সূচক ব্যবহার করে থাকে।

  • সিএসই সকল শেয়ারমূল্য সূচক।
  • সিএসইএক্স সূচক ও
  • সিএসই ৩০ সূচক।

স্টক এক্সচেঞ্জ শুরুতে ছিল বিভিন্ন কোম্পানির স্টক ব্যবসার কেন্দ্র। কিন্তু, এখন এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান যা সম্পূর্ণ আইসিটি নির্ভর। সবচেয়ে সুবিধাজনক হচ্ছে এখনো পর্যন্ত এই স্টক এক্সচেঞ্জের ঠিকানা একই রয়েছে এবং এই এক ঠিকানা দিয়েই সকল প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করা হয়ে থাকে।

স্টক এক্সচেঞ্জ এর কাজ

স্টক এক্সচেঞ্জ বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে। যেমন-

  • শেয়ার, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড সহ সিকিউরিটিজগুলির তালিকাভুক্তি করে থাকে।
  • এই তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলির বিভিন্ন লেনদেনের ব্যবস্থা করে থাকে।
  • তালিকাভুক্ত করার সময় কোম্পানিগুলিকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল, সেসব শর্ত কোম্পানিগুলি ঠিকমত পালন করছে কিনা তা যাচাই করা।
  • লেনদেনের মূল সময়ে অনলাইন মার্কেটের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা, মার্কেট মনিটরিং করা এবং লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মকানুন সমূহ ঠিকমত পালিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা।
  • লেনদেন কার্যক্রম চূড়ান্ত করে তা নিষ্পত্তি করে থাকে।
  • বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।
  • এছাড়াও, সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশে যে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে।

স্টক মার্কেট কিভাবে কাজ করে থাকে

স্টক মার্কেট অনেকটা নিলামের মত কাজ করে থাকে। এর যদিও কিছু নীতিমালা রয়েছে। এখানে ক্রেতা বিক্রেতা তাদের স্টকের দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিক্রেতা তার স্টকের একটা দাম ঠিক করে যেটাকে বলে আস্কিং প্রাইস। এক এক বিক্রেতা তার স্টকের এক এক দাম নির্ধারণ করে থাকেন।

আবার ক্রেতা ও কি পরিমান দাম দিয়ে স্টক ক্রয় করবেন তা ঠিক করে থাকেন। এই দামকে বলা হয়ে থাকে বিডিং প্রাইস। যখন বিডিং প্রাইস আর আস্কিং প্রাইস এক হয় তখন ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে স্টক কেনার সাথে সাথেই তা পাওয়া যায়না। কোম্পানিভেদে দুই তিনদিনে দেরি হয় স্টক হাতে পেতে।

স্টক এক্সচেঞ্জ এর আয়

স্টক এক্সচেঞ্জ কয়েকভাবে আয় করে থাকে। যেমন:

  • লিস্টিং ফি
  • কন্ট্রাক্ট চার্জ
  • বিভিন্ন লিস্টেড কোম্পানির উপর ফি
  • সকল ধরনের ক্রয় বিক্রয় এর উপর কমিশন নেয়া ইত্যাদি থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ আয় করে থাকে।

স্টক এক্সচেঞ্জ এ ইনভেস্ট করার পদ্ধতিসমূহ

স্টক এক্সচেঞ্জ কি
স্টক এক্সচেঞ্জ কি

স্টক এক্সচেঞ্জে ইনভেস্ট করা নিঃসন্দেহে একটা লাভজনক পদ্ধতি। নিচে এখানে ইনভেস্ট করার উপায়গুলো দেওয়া হলো।

১. ব্রোকার ঠিক করা: স্টক কেনা বেচার জন্য অবশ্যই শুরুতেই একজন ব্রোকার ঠিক করতে হবে। ব্রোকাররা স্টক মার্কেট কর্তৃক নিবন্ধিত থাকে।

২. একাউন্ট খোলা: স্টক মার্কেটে কেনা বেচার জন্য একাউন্ট খুলতে হবে। ব্রোকার এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করে থাকবে।

৩. কোন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করতে চান তা নির্ধারণ করা: কোন কোন খাতে ইনভেস্ট করতে চান তা বাছাই করতে হবে। এক্ষেত্রে সুবিধা হলো ইনভেস্টর নিজের পছন্দ মত কোম্পানি বাছাই করতে পারেন।

. ব্রোকারের মাধ্যমে ক্রয় আদেশ দেয়া: স্টক পছন্দ হলে ব্রোকারের মাধ্যমে তা কেনার জন্য অর্ডার প্লেস করতে হবে।

. স্টক ক্রয় সম্পন্ন করা: ক্রেতা ও বিক্রেতার দামের মিল হলে সেই ক্রয়টি সম্পন্ন করতে হবে। দামে বনিবনা হলে ব্রোকার আপনার আইডি থেকে স্টক ক্রয় সম্পন্ন করবে। আর এর মাধ্যমে আপনি সেই কোম্পানির স্টকটির মালিকানা গ্রহণ করলেন।

৬. ব্রোকারেজ চার্জ: স্টক মার্কেটে যেহেতু কাজ করার জন্য ব্রোকারদের সাহায্য নিতে হয়, তাই ব্রোকারদের একটি নির্দিষ্ট চার্জও দিতে হয়। এই চার্জের পরিমান নির্ধারিত নয়। এটি নির্ভর করে ব্রোকারদের উপর। কাজেই স্টক মার্কেটে যখন আপনি ব্রোকার বাছাই করবেন তখন এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

স্টক এক্সচেঞ্জ কেন দরকার?

কোন কোম্পানি তার শেয়ার কোথায় কেনা বেচা করবে বা কাদের কাছে কেনাবেচা করবে তার একটি বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম দরকার। স্টক এক্সচেঞ্জ তেমন একটি মাধ্যম যেখানে কোম্পানি ও শেয়ার হোল্ডাররা তাদের কেনাবেচা নিশ্চিন্তে করতে পারে।

Frequently Asked Questions

বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ কয়টি?

২টি যথা:
১. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
২. চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কি?

বাংলাদেশ সিকিউরিটিস এন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৫৪ সালে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৯৫ সালে।

ব্লু চিপস কি?

সাধারণত যেসকল কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন তাকে ব্লু চিপস কোম্পানি হবে। আর শেয়ারগুলোকে বলা হয় ব্লু চিপস।

Dividend বা লভ্যাংশ কি?

যেহেতু আপনি কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন সুতরাং, আপনিও কোম্পানির একজন অংশিদার। সুতরাং, কোম্পানি যখন তাদের লাভের অংশ শেয়ার হোল্ডারদের দেন তখন তাকে Dividend বা লভ্যাংশ বলে।

ব্রোকার কি?

ব্রোকার হলো তারা যারা শেয়ার হোল্ডারদের হয়ে কমিশনের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় বিক্রিয় করে।

উপসংহার

আশা করি স্টক এক্সচেঞ্জ কি এই নিয়ে আর কোন প্রশ্ন নেই। আর যদি থাকেও তাহলে, কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। অনেকে থাকেন যারা তাদের জমানো টাকা অলস ফেলে না রেখে, কোথাও কাজে লাগাতে চায়। তাদের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ একটি উত্তম জায়গা। এখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি নিজের সম্পদ বাড়ানোর একটি ব্যবস্থা ও থাকে।

আর কিছু লেখা



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102