সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন বস্ত্রমন্ত্রী, দিয়েছেন ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
  • ২৭
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন বস্ত্রমন্ত্রী, দিয়েছেন ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ১০ জুলাই ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ গ্রুপের কারখানা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি শ্রমিক নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যাপারে আশ্বাস দেন। আজ শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কারখানাটি মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার মধ্যে। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, যার মরে সেই শুধু বোঝে যে কত ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং মালিকপক্ষকে নিয়ে বসে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখানে যারা মালিকপক্ষ আছেন তাদের সঙ্গে আমি কথা বলল। কথা বলে এমন একটা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে যাতে শ্রমিকপক্ষ খুশি থাকে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমিও রূপগঞ্জের একজন শিল্পগোষ্ঠীর সদস্য। সুতরাং আমরা সবাই মিলে বসে একটা ব্যবস্থা করব। যাতে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ভালোভাবে চলতে পারে।

এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৯ মরদেহের একটিও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা। আজ শুক্রবার (৯ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি এ কথা বলেন।

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

তিনি আরও বলেন, আগুনে পুড়ে ঝলসে যাওয়া ৪৯ জনের মরদেহের একটিও শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহগুলোর যথাযথ প্রক্রিয়ায় ডিএনএ টেস্ট করা হবে। আত্মীয়দের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে পরবর্তীতে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনে তাদের মরদেহ ফ্রিজিং করা হবে। মরদেহগুলো বর্তমানে ঢামেক মর্গে আনা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহতদের ২৫ হাজার ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী। তিনি বলেন, মরদেহগুলো হস্তান্তরের সময় সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহতদের স্বজনদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর যারা আহত হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ সহায়তা দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কারখানাটির ৫ ও ৬ তলায় এখনও আগুন জ্বলছে। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিট। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

এর আগে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক এখনও ওই ভবনের ভেতরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অন্যান্য শ্রমিক ও নিখোঁজের স্বজনরা। শ্রমিকদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছয়তলা ভবনটির মধ্যে চতুর্থতলার শ্রমিকরা কেউ বের হতে পারেননি। সিকিউরিটি ইনচার্জ চারতলার কেচি গেটটি বন্ধ করে রাখায় কোনো শ্রমিকই বের হতে পারেননি। সেখানে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

তারা জানান, চতুর্থতলার শ্রমিকদের ইনচার্জ মাহবুব, সুফিয়া, তাকিয়া, আমেনা, রাহিমা, রিপন, কম্পা রানী, নাজমুল, মাহমুদ, ওমরিতা, তাছলিমাসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা কারখানার সামনে এসে ভিড় করছেন। তাদের আহাজারিতে কারখানার চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন লাগার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ কেচি গেটের তালা না খোলায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি।

কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল ৬টার দিকে আবার কারখানার চারতলায় আগুন বাড়তে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণের আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় আগুন লাগে।

নাঈম/নিএ




Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102