রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দ্বিগুন বেতন দাবী সালাহর, বিক্রি করতে চায় লিভারপুল – স্পোর্টস প্রতিদিন খুলনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কেএমপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ১,৭১৪ টি মোবাইল নেটওয়ার্ক সাইট সচল – টেক শহর বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পানিতে তলিয়ে গেল রাস্তা, জাল ফেলতেই ধরা পড়ল প্রচুর মাছ অবশেষে যুগান্তকারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিলে বাইডেনের স্বাক্ষর ভিনিসিয়াস আমার ভাইয়ের মত: রোদ্রিগো – স্পোর্টস প্রতিদিন শরণখোলায় পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন উপলক্ষ্যে নানা অয়োজনে উৎসব পালন শরণখোলায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল এসএসসি পরীক্ষার্থী

মাগুর মাছের রেণু উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা | Adhunik Krishi Khamar

  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
মাগুর মাছের রেণু উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা | Adhunik Krishi Khamar

মাগুর মাছের রেণু উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে মৎস্য চাষিদের অনেকেই তেমন কোন ধারণা রাখেন না। মাগুর মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাছের রেণু উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলুন আজ জানবো মাগুর মাছের রেণু উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে-

মাগুর মাছের রেণু উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় সতর্কতাঃ 


প্রজননক্ষম ব্রুড মাছ মজুত ও নির্বাচনঃ

প্রতি শতাংশে ৫০/১০০ টি দেশি মাগুর মজুত করতে হবে। দেশি মাগুর এক বছরেই প্রজননক্ষম হয়ে থাকে। প্রজননের সময় পুরুষ ও স্ত্রী মাগুর মাছকে সহজেই সনাক্ত করা যায়। স্ত্রী মাগুর মাছ একটু কালচে বর্ণের হয় এবং প্রজনন মৌসুমে পেট ভর্তি ডিম থাকে। পুরুষ মাছের পেট স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে এবং পুরুষ মাগুর মাছের রং হালকা বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। প্রজননের জন্য সুস্থ সবল পেট ভর্তি ডিম দেখে স্ত্রী মাছ নির্বাচন করতে হবে। ভাল ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই মাগুর মাছ প্রজনন করানো যায়।

হরমোন প্রয়োগঃ

মাগুর মাছকে ২টি হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করা যায়। পিটুইটারি গ্যান্ট বা পিজি দিয়ে আর এইচ.সি.জি. দিয়ে। পি.জি. দিয়ে আবার ২টি পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করা যায়। একটি মাত্র ডোজ দিয়ে ডিম সংগ্রহ করা যায় আবার ২টি ডোজ দিয়েও ডিম সংগ্রহ করা যায়। মাগুরের ডিম সংগ্রহের জন্য হরমোন ইঞ্জেকশনের চেয়ে মাছের পরিপক্কতার উপর বেশি নজর দেয়া উচিৎ।

ইঞ্জেকশনের মাত্রাঃ 

আগেই উল্লেখ করেছি যে, পিজি দিয়ে ২টি পদ্ধতিতে ডোজ দেয়া যায়। একটি একক মাত্রা বা একটি মাত্র ডোজ আর অন্যটি ২টি ডোজ। ইঞ্জেকশন দিতে হবে প্রজনন অঙ্গ বরাবর উপরের মাংশল স্থানে। সাধারণত ২য় ডোজের ২০/২৪ ঘণ্টা পর দেশি মাগুর মাছের ডিম সংগ্রহের সময় হয়ে থাকে।

ডিম সংগ্রহ পদ্ধতিঃ

চাপ প্রয়োগে মাগুর মাছের ডিম সংগ্রহ করতে হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে এখন পর্যš- এই মাছের প্রজনন করানো সম্ভব হয়নি। অন্যান্য মাছ যেখানে ডিম পাড়ার সময় হলে আপনা-আপনি ডিম বের হতে থাকে সেখানে মাগুর মাছের ডিম সহজে বের হতে চায় না। আর সে জন্য মাগুর মাছের ডিম বের করার সময় কার্প জাতীয় মাছের চেয়ে পেটে একটু বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হবে। বেশি জোড়ে চাপ প্রয়োগের ফলে ডিম যেন ফেটে না যায় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে তাতে সমস্ত পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে। ২টি পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করে স্পার্ম মেশানো যায়। উভয় পদ্ধতিতেই পুরুষ মাগুর মাছের টেস্টিজ বা অণ্ডকোষ কেটে স্পার্ম বের করে পাখির পালক দিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে।

প্রথমে স্ত্রী মাগুরের পেটে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করতে হবে এবং অন্যদিকে একই সময়ে ২/৩ জনে ভাগে ভাগে মিলে অণ্ডকোষ কেটে স্পার্ম বের করতে হবে। কারণ আগে ডিম সংগ্রহ করে তারপর স্পার্ম সংগ্রহ করলে এতে সময় বেশি লাগে এবং তাতে পরে স্পার্ম মেশালে ডিমের উর্বতার হার কম হয়, এমনকি কোন কোন সময়ে ডিম ফার্টিলাইজ হয় না।

এখানে ১ থেকে ১.৫ মিনিটের মধ্যেই এই কাজটি শেষ করতে হবে। এই কাজটি করার সময় ডিম সংগ্রহের জন্য ২/৩ জন আবার স্পার্ম সংগ্রহের জন্য ২/৩ জন এভাবে ২টি দলের একে অপরের সাথে সমন্বয় রাখতে হবে। যেমন চাপ প্রয়োগের সময় একজনে মাছ ধরে দিতে হবে। আরেকজন চাপ দিয়ে ডিম বের করতে হবে। অন্য দিকে একই সময়ে একজন পুরুষ মাছের পেট কেটে টেস্টিজ বের করে তারপর কাটতে হবে এবং টেস্টিজ থেকে স্পার্ম বের করে তাতে কয়েক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে তখনি ডিমের সাথে মেশাতে হবে।

বিশুদ্ধ পরিষ্কার পানিতে .৯% লবণ মিশিয়ে তাতে স্পার্ম মিশিয়ে পরে ধীরে ধীরে ডিম সংগ্রহ করে তাতে মিশিয়ে নিলেও চলে। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে ২টি পদ্ধতির মধ্যে ১ম পদ্ধতিটি বেশি কার্যকর মনে হয়েছে।

দেশি মাগুর একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সুস্বাদু মাছ। রোগীর পথ্য হিসাবে মাছটির চাহিদা রয়েছে অনেক। এক সময় এই মাছটিকে সহজেই প্রাকৃতিক জলাশয়ে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন দেশি মাগুর আর তেমন পাওয়া যায় না। তাই মাছটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। তবে আশার কথা হল দেশের মাছ চাষিরা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এই মাছটিকে ফিরিয়ে এনেছে।

ডিম সংগ্রহের পরবর্তী ব্যবস্থাপনাঃ

ডিম সংগ্রহের পর ডিমগুলোকে সিস্টার্নে নিয়ে যেতে হবে। সিস্টার্নের আকার আয়তকার হতে হবে। দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট এবং প্রস্থে ৪ ফুট হলে ভাল। সিস্টার্নের পানির উচ্চতা ৩ ইঞ্চির বেশি দেয়া উচিৎ নয়। ডিমগুলোকে পাখির পালক দিয়ে আস্তে আস্তে সিস্টার্নে বিছিয়ে দিতে হবে। মাগুরের ডিম আঠালো আর সেজন্য ডিমগুলোকে এমনভাবে বিছাতে হবে যেন একটি ডিম আরেকটি ডিমের সাথে লেগে না যায়।

তারপর আধা ইঞ্চি পি.ভি.সি. পাইপ ছিদ্র করে পানির ঝর্ণার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশি মাগুরের ডিম ফুটতে কার্প জাতীয় মাছের চেয়ে সময় বেশি লাগে। তাপমাত্রা ভেদে ৩০ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই র্দীঘ সময়ে মাগুর মাছের ডিমে ফাঙ্গাস আক্রমণ করতে পারে। ডিমে ফাঙ্গাস আক্রমণ করার সাথে সাথে ওই ডিমগুলোকে সিস্টার্ন থেকে সাইফনের মাধ্যমে ফেলে দিতে হবে। অন্যথায় অত্যন্ত- দ্রুত গতিতে এই ফাঙ্গাস এক ডিম হতে অন্য ডিমে ছড়িয়ে গিয়ে সমস্ত ডিমকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। সেজন্য ডিমগুলোকে সিস্টার্নে ঘন করে দেয়া যাবে না। যথাসম্ভব পাতলা করে দিতে হবে।

এই সময় ঠাণ্ডা পানির ঝর্ণার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। পানির তাপমাত্রা ২৭/২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট রাখতে হবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে পানির তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে দেশি মাগুরের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েও পরে বাচ্চা মারা যায়। এভাবে ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার পর বাচ্চাগুলো আপনা আপনি সিস্টার্নের কোণায় যেতে থাকবে। সিস্টার্নের কোণায় অবস্থান নিলেই সাধারণত বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায়।

বাচ্চাগুলো কোণায় অবস্থান নিলে সিস্টার্নের মাঝখানের ময়লা, ধূলাবালি সাইফনের মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিতে হবে। এভাবে বাচ্চার বয়স ৭২ ঘণ্টা পার হলেই এদেরকে কৃত্রিম খাবার দিতে হবে। এই সময় খাবার হিসাবে ছোট জু-প্যাংকটন জীবিত অবস্থায় সিস্টার্নে দিতে হবে। এই জু-প্যাংকটন পুকুর থেকে জীবিত অবস্থায় ধরে সংগ্রহ করে তারপর সিস্টার্নে দিতে হবে। সিস্টার্নে দু’দিন এই খাবার খাওয়ানোর পর নার্সারি পুকুরে স্থানান্তর করতে হবে।

রেনু উৎপাদনকালীন সতর্কতাঃ

  • দেশি মাগুরের ব্রুডমাছ অবশ্যই পরিপক্ক হতে হবে। অন্যথায় সমস্ত কাজই বিফলে যাবে।
  • চাপ প্রয়োগে ডিম সংগ্রহের সময় খুব বেশি চাপ দিয়ে ডিম বের করা উচিৎ নয়। তাতে ডিম ভেঙ্গে যেতে পারে।
  • সিস্টার্নে ডিম যেন অধিক ঘনত্বে দেয়া না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। অর্থাৎ একটি ডিম আরেকটি ডিমের সাথে যেন লেগে না যায়।
  • সিস্টার্নের ঠাণ্ডা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পানির তাপমাত্রা ২৭/২৮ ডিগ্রির বেশি হলে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলেও মারা যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

আরও পড়ুনঃ ফলি মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে করণীয়



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102