বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর মোংলায় ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্টের বিস্তাররােধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং শুরু বাগেরহাটে করোনার ভয়াবহতা রোধে জনসচেতনতার কার্যক্রম শুরু টিআই’র দুর্নীতি প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট : ড. হাছান মাহমুদ ২ বাসের চাপায় কিশোরের মৃত্যু: এক চালক মাদকাসক্ত, অন্যজন হেলপার প্রতারণার অভিযোগে মামলার মুখে গুগল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সমাজের বোঝা নয়- ইউএনও কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে পুতিনের শুভেচ্ছা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২২ নেইমারের বিপক্ষে খেলা বিশেষ কিছুঃ রোদ্রিগো – স্পোর্টস প্রতিদিন

‘সবাইরে ঘর দেছে, আমারে তো দেয় না’

  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ২৮
‘সবাইরে ঘর দেছে, আমারে তো দেয় না’

মাগুরা প্রতিনিধি

 ‘শুনেছি শেখ হাসিনা সবাইরে ঘর দেছে, আমারে তো দেয় না’- এ কথাগুলো বলেছেন নিভৃত অজোপাড়া গ্রামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী অসহায় নারী লক্ষ্মী রানী। লক্ষ্মী রানী নাম হলেও কপালে দুঃখ ছাড়া সুখের দেখা মেলেনি কোনোদিনও। স্বামী-সন্তান ছাড়াও আপনজন বলে কেউ নেই তার।

লক্ষ্মী রানী শারীরিক প্রতিবন্ধী একজন নারী। ছোটবেলা থেকে তার দুই পা পঙ্গু। ভাগ্যগুণে বিয়ে হয়েছিল কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে স্বামী অমল সরকার তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সেই থেকে দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে বসবাস করে আসছেন। দুই মুঠো ভাতের জন্য পথচেয়ে বসে থাকতে হয়। আবার কোনদিন তাকে অনাহারে কাটাতে হয়।

লক্ষ্মী রানী মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের রুই-ফলোশিয়া গ্রামে বসবাস করে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মুকন্দ সরকারের মেয়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, ছোট্ট একখানা খুপরি ঘরে তার বসবাস। ঝড়, বৃষ্টি, রোদ সব কিছুর সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে ওই ঘরেই বসবাস করতে হয়। লক্ষ্মী রানী বারান্দায় বসে খেজুর পাতার পাটি বুনছেন। পাশে একটি জরাজীর্ণ চুলা। একটি ফুটো পানির পাত্রে খাওয়া-দাওয়া চলে তার। সঙ্গী হিসেবে একটি মাত্র বিড়াল আছে, সেটিও দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে। রাত্রে ঘুমানোর জন্য রয়েছে একটি মাত্র ছিঁড়ে যাওয়া খেজুর পাতার পাটি ও পুরনো একটি কাঁথা।

তার সঙ্গে কথা বললে তিনি কেঁদে বলেন, পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। আমারে আপনারা দেখবেন।

তিনি বলেন, শুনেছি শেখ হাসিনা সবাইরে ঘর দেছে, আমারে তো দেয় না। সবাই সরকারি ঘর পেয়েছে। আমি এই ঘরে শুইতে পারি না। সরকারকে বলে একটা ঘর দিয়েন আমারে।

বর্তমানে খাবার দেখাশুনা করে কে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের বাড়ির লক্ষণ বিশ্বাস। তিনি পেশায় একজন জেলে। তিনি তার ছয় সদস্যের পরিবারের পাশাপাশি লক্ষ্মী রানীকে দেখাশুনা করেন।

লক্ষণ বিশ্বাস জানান, ২৫ বছর আগে তার স্বামী ফেলে রেখে গেছেন। কেউ খোঁজখবর নেয়নি। মানবিক চিন্তা করে তাকে দেখাশুনা করি। লকডাউনে আমার আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। আমার পরিবার ঠিকমতো চলে না। তারপরও লক্ষ্মীকে খাবার দিই। সরকার লক্ষ্মীকে একটি ঘর করে দিলে সে ভালো করে সামনের জীবনটুকু পার করতে পারত।

বাবুখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বলেছি তার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। তাকে দ্রুত সহযোগিতা করা হবে।

বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, লক্ষ্মী রানীর বিষয়ে জানতে পেরেছি। তাকে সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।


Post Views:
25



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102