বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

সুপেয় পানি বঞ্চিত ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা

  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ২২
সুপেয় পানি বঞ্চিত ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

মনিরামপুরের অবহেলিত একটি জনপদের নাম ইত্যা ঋষিপল্লী। বহুদিনধরে নানা সুযোগ সু্বিধা বঞ্চিত ছিলো এই পল্লীর শতাধিক পরিবার। ছিলনা ভাল রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এখন অবশ্য ধীরেধীরে তাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে।

ইত্যা ঋষিপল্লীর বাসিন্দাদের সুপেয় পানি বঞ্চিতের কথা চিন্তা করে পাঁচ বছর আগে তৎকালীন ইউএনও কামরুল হাসান বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেন। সাবমারসিবল পাম্প ও ট্যাংক বসিয়ে তিনি তাদের পানের পানির ব্যবস্থা করেন। যেখানে বিনা খরচায় সৌর প্যানেলের মাধ্যমে পানি ওঠে। ঠিকাদার নিয়োগ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস প্রকল্পটির কাজ শেষ করে। সহজে পানি পাওয়ার জন্য প্যানেলের নিচে দুটিসহ আশপাশে ১০টি ট্যাব বসানো হয়।

এরপর থেকে ওই জনপদের ১৩০টি পরিবার নিরাপদ পানি পান করে আসছিলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে গেল বছরের ২০ মে। আম্পান ঝড়ে সোলার প্যানেল উড়ে গিয়ে প্রকল্পটি অকেজো হয়ে পড়ে। সেই থেকে নিরাপদ পানির সমস্যায় ভুগছেন এখানকার বাসিন্দারা। একাধিকবার লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও চালু করা যায়নি প্রকল্পটি।

রোববার সরেজমিন দেখাগেছে, ঋষিপল্লীর মন্দিরের সামনে চারটি পিলার গেঁথে ২০-২৫ফুট উপরে দেড়-দুই হাজার লিটারের একটি পানির ট্যাংক বসানো। ট্যাংকের উপরে সংযুক্ত ১৯টি সোলার প্লেট রয়েছে। সূর্যের তাপে প্লেটগুলো গরম হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। তাদিয়ে মোটর পাম্পের মাধ্যমে ট্যাংকে পানি ওঠে। সেই পানি ট্যাবের মাধ্যমে পেত সবাই। এখন প্রকল্পটি বিকল হয়ে পড়ে আছে।

ঋষিপল্লীর বাসিন্দা রত্না দাস বলেন, রান্না ও খাওয়ার কাজ করতাম এই পানি দিয়ে। দেড় বছর ধরে তা নষ্ট হওয়ায় এখন আর পানি ওঠে না।

সুশান্ত দাস বলেন, আর্সেনিকমুক্ত পানি খাত পাচ্ছিনে। কল নষ্ট খাব কিয়াইরে। এখন বাড়ির কলের আইরনযুক্ত পানি খাতি হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল দাস বলেন, আম্পান ঝড়ে তার ছিড়ে একটা সোলার প্লেট ঝুলে পড়ে। পরেরদিন থেকে আর পানি ওঠেনি। দুইবার লিখিত আবেদনের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকে জানিয়েছি। তিনি পিআইওর কাছে পাঠিয়েছেন। সেখানে গেলে পিআইও বলেছেন বরাদ্দ নেই। দেড় বছর ধরে এখানকার মানুষ সুপেয় পানি বঞ্চিত। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, মেম্বর মিথ্যা বলছেন। তিনি আমার কাছে এই বিষয়ে কখনো আসেননি। আমি খোঁজ নিচ্ছি প্রকল্পটি আমাদের অফিসের কিনা। যদি আমাদের হয় তাহলে দ্রুত প্রকল্পটি সচল করা হবে।


Post Views:
8



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102