রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুলনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কেএমপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পানিতে তলিয়ে গেল রাস্তা, জাল ফেলতেই ধরা পড়ল প্রচুর মাছ অবশেষে যুগান্তকারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিলে বাইডেনের স্বাক্ষর ভিনিসিয়াস আমার ভাইয়ের মত: রোদ্রিগো – স্পোর্টস প্রতিদিন শরণখোলায় পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন উপলক্ষ্যে নানা অয়োজনে উৎসব পালন শরণখোলায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল এসএসসি পরীক্ষার্থী হুট করে ফরিদপুরের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কুমিল্লাবাসী বললো, ‘ফার্স্ট টাইম?’ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় জ্বরে অবহেলা, শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হাসপাতালে ছুটছেন মানুষ

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১
কুষ্টিয়ায় জ্বরে অবহেলা, শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হাসপাতালে ছুটছেন মানুষ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় করোনা হাসপাতালে বেশির ভাগ রোগী অধিক শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। থেকে ১০ দিন আগে এসব মানুষ সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলেও শুরুতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে রোগীর মৃত্যুহার বেড়ে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় কুষ্টিয়ার করোনা ডেডিকেটেড ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় করোনা হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় করোনায় ৩৫০ জন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে গত ২৮ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৪০ করোনা রোগী মারা যান। সময়ে জেলায় মারা যান ১৬১ জন। অর্থ্যাৎ মোট মৃত্যুর ৮৭ শতাংশ মারা যান হাসপাতালে। করোনা হাসপাতাল বাদে বাকি ২১ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাড়িতে মারা যান।

করোনা হাসপাতালে ১৫ দিনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৪০ রোগীর মধ্যে ৯০ জনের ভর্তির সময় অক্সিজেন স্যাচুরেশন (মাত্রা) ছিল ৮০–এর নিচে। সর্বনিম্ন ৩৫ পাওয়া গেছে। এই রোগীদের কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাতের বেলায় মারা গেছেন অন্তত ৪০ রোগী।

হাসপাতালে প্রতিদিন মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য খতিয়ে দেখতে ডেথ রিভিউ বোর্ড ডেথ অডিট কমিটি রয়েছে। সাত সদস্যের কমিটির সভাপতি হলেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট রেজাউল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চিকিৎসক কাজী নাজমুল হক, মো. আবদুল্লাহ, ইফতেখার হোসেন খান এবং নার্স রতনা খাতুন, জান্নাতুন নাহার দিপ্তী তালুকদার।

করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি নমুনা নিয়ে চিকিৎসা করাতেন, তাহলে হয়তো সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকত।

ডেথ রিভিউ বোর্ড ডেথ অডিট কমিটির সদস্যরা বলছেন, কুষ্টিয়ায় গ্রামের ঘরে ঘরে করোনা পৌঁছে গেছে। কিন্তু গ্রামের বাসিন্দারা অসচেতন বেশি। যেসব মানুষ ভর্তি হতে আসছেন, তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব রোগীই হাসপাতালে আসার অন্তত থেকে দিন আগে জ্বর, ঠান্ডা–কাশিতে আক্রান্ত হন। দু–এক দিনে এসব সেরে গেলেও তাঁরা নমুনা দিয়ে করোনা পরীক্ষা করান না। স্বাভাবিক জ্বর-ঠান্ডা ভেবে চিকিৎসা নেন। কিন্তু সাত থেকে আট দিনের বেলায় তাঁদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসেন।

ডেথ রিভিউ বোর্ড ডেথ অডিট কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি নমুনা নিয়ে চিকিৎসা করাতেন, তাহলে হয়তো সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকত।’ তিনি জানান, গত ১৫ দিনে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের ৯৯ শতাংশ রোগীর করোনা টিকা নেওয়া ছিল না। ছাড়া অধিকাংশ রোগী কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

করোনা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক আক্রামুজ্জামান মিন্টু বলেন, কয়েক দিন ধরে কুষ্টিয়ায় রোগী শনাক্ত মৃত্যের হার স্থিতি পর্যায়ে আছে। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে ধরে নিতে হবে বিধিনিষেধই ভালো ছিল। আর তা না হলে বিধিনিষেধ হার কমানোয় কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে এখনো বলার সময় আসেনি, কুষ্টিয়ায় করোনার দাপট কবে নাগাদ কমতে পারে।

জুলাই দুপুরে হাসপাতালের ডেথ রিভিউ বোর্ড ডেথ অডিট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রোগী মৃত্যুর কারণ প্রতিরোধ বিষয়ে পর্যালোচনা করে মৃত্যুর হার হ্রাস করার জন্য তিনটি সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, পৃথক এইচডিইউ ইউনিট স্থাপন, অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো এবং চিকিৎসক, নার্সসহ তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাড়ানোর কথা বলা হয়।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বেশ কিছু অতিরিক্ত চিকিৎসক নার্স করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত হয়েছেন। আইসিইউ বেড এইচডিইউ সাপোর্ট দিতে পূর্ণাঙ্গ সরঞ্জাম নেই। এখানে শুধু ১৫০ জায়গায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন ৩০টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা সাপোর্ট রয়েছে।

এক মাস ধরে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ২৮০–এর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। এত রোগীর বিপরীতে তিন শিফটে চিকিৎসক যথাক্রমে সকালে চারজন, বিকেলে রাতে তিনজন করে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ওয়ার্ডে (এক ওয়ার্ডে অন্তত ৬০ জন রোগী) সকালে জন, বিকেলে রাতে জন করে নার্স দায়িত্ব পালন করেন। আজ থেকে সকালে দুজন, বিকেলে রাতে আরও একজন করে চিকিৎসক এবং একজন করে নার্স বাড়ানো হয়েছে। এতে চাপ কিছুটা কমবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলছেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ সবকিছু ভালো আছে। চিকিৎসক নার্স নতুন সংযুক্ত করা হয়েছে। তদারকি আরও বাড়ানো হচ্ছে।


Post Views:
5



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102