রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১১ অপরাহ্ন

মৃত্যু ভাবনায় ব্যাকুল শাহানাজ খুশি

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১
  • ১৩
মৃত্যু ভাবনায় ব্যাকুল শাহানাজ খুশি

বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় নাট্যশিল্পী শাহানাজ খুশি জীবনের নানান বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। সন্তানদের কথা, ঘরের কথা, যাপিত জীবনের কথা, সমাজের কথা সব সময়ই লেখেন। তবে এবার লিখেছেন একেবারে ভিন্ন কিছু। মৃত্যু চিন্তা ও মানুষের প্রতি মায়ার বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে লিখেছেন।

খুশি লিখেছেন, হঠাৎ করেই একটা ভাবনা আমাকে বড্ড ব্যাকুল করছে, আমার মৃত্যু খবরটা তুমি কীভাবে পাবে বলতো? আমি তো তখন ফোন/ইন্টারনেট থেকে বহু দূরে! কেউ জানে না, আমার কোন ফোন নম্বরে এ বিস্তর যাতায়াত ছিল তোমার!

কার সাথে দ্রাঘিমা-বিষুব রেখার গতিপথ নিয়ে বিস্তর আলাপ হয়েছে, জীবনে এসে তা মেলেনি বলে! দেখা হবে না, কোনোদিনই এমন অমোঘ সত্য জানার পরও দীর্ঘশ্বাসহীন জীবনের তুখোড় গল্পে মেতেছি রোজ।

কোনো অসুবিধা হয়নি, সকাল বিকাল, কবিতা গান, বৃষ্টি, পথের ক্লান্তি, শেষ বয়সেও জীবন শুরুর কিংবা শেষের গল্পটা করতে! আমার মেয়েটা আমার বিয়োগ শোকের কান্নাটা কমলে, একদিন আমার আলমারির ড্রয়ার খুঁজে কয়েকটা খুব স্বপ্নমুখর বৃষ্টি, অথবা চন্দ্রভুক আমার জোছনা ধোয়া চিঠি পাবে!

পৃথিবীর পরিচিত লেনদেনগুলো থেকে আলাদা একা সদ্যমৃত প্রেমের দুর্দান্ত বায়োডাটা দেখে চমকে যাবে!

কি ভাববে সে তখন বলতো? এমন মৃত্যু যন্ত্রণাতেও হসপিটালের সফেদ বিছানায় শুয়ে সে দুশ্চিন্তা আমায় বেশ ঘাবড়ে দিল! তুমি রোজ ঘুরছে, অথচ আমার হাসির শব্দ নাই, রাজনীতি অথবা থিয়েটারের গল্প নাই, হুটহাট কলিং বেল চেপে পালিয়ে যাওয়া ছেলেমানুষি নাই…

তোমার লেকপাড়ের বাড়ির রান্নায় আর কোনো রান্নার মেনু যুক্ত হচ্ছে না, ইত্যাদি! না দেখা মানুষের সাথে, অনেক দেখা দিনরাতে কথা হচ্ছে না! একদিন পাহাড়ে উঠা অথবা সূর্যাস্ত দেখার ইচ্ছেটা ডানা গুটিয়ে ঘুমিয়ে যাবে!

ঢেলে রাখা ওয়াইনের গ্লাসটা ঘোলা হয়ে যাবে! তুমিও অফিস, ছেলে-মেয়ের সংসার, ভবিষ্যৎ পথের ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়বে! মাঝেমধ্যে চরম অভিমানে উঁকি দিয়ে ভাববে, ‘কি এমন ব্যস্ততা আমার যে, দু লাইন চিঠিতে কুশলাদিটা লিখে পোস্ট করতে পারছি না?

আমি তখন অনেক দূরে! তোমাকে বলে না আসতে পারার কষ্টটা চাপা দিতে, রোজই কাঁদছি আর ভাবছি-সেদিন অমন করে দেখা না হলেই ভালো ছিল!

কয়েকটা দিনরাতের চিঠি ভুলতে আমার এখনকার জীবনেও রোজ হরতাল, মিছিল। আমি জমা দিতে না পারা, জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ইশতেহারটা হাতে করে বসে ভাবছি, জীবিত জীবনের সব ভোল গেল, কেবল তোমাকে নয় কেন বলতো? অথচ, তোমাকে দেখা হয়নি আমার কোনোদিনই…



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102