শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪২ অপরাহ্ন

ডায়েট নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

  • Update Time : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

ডায়েট নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

ডায়েট বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত একটি শব্দ। ডায়েট করছি বা ডায়েটে আছি এমন শব্দ আমরা প্রায়ই শুনি, নিজেরাও করি। বর্তমান প্রজন্ম খুব আগ্রহের সাথে ডায়েট করে। সুস্থ এবং ফিট থাকার এই চেষ্টায় পিছিয়ে নেই শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই।

ডায়েট শুনলে আমাদের চোখের সামনে স্বাদহীন সব খাবারের ছবি উঠে আসে। টমেটো, শষা, ভাত হীন জীবন, ফাস্টফুড হীন জীবন চোখের সামনে ভাসে।

আসলেই কি ডায়েট মানে তাই?

ডায়েট নিয়ে আছে অনেক ভুল ধারণা, আছে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস ডায়েট ও ওজন কমানোর বিষয়ে নিয়ে আজ আমরা বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করবো।

ডায়েট কি?

ল্যাটিন শব্দ “ডায়াটা” থেকে এসেছে ডাচ এবং ক্রমান্বয়ে গ্রীক “ডেইটা” থেকে যার আগমন, যার অর্থ হলো জীবন ব্যবস্থা। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ মানুষের এই প্রাকৃতিক আচরণকে ডায়েট হিসাবে অভিহিত করা হয়।

ডায়েট অর্থ বেঁচে থাকার জন্য সুষম খাবার। উদ্ভিদকুল থেকে শুরু করে সকল প্রাণীরই খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এই খাদ্য খেয়েই আমরা শক্তি পাই। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে গেলে প্রয়োজন সঠিক খাদ্য অভ্যাস। অপরিমিত খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা, বর্তমান ওজন এবং প্রতিদিনের কাজ অনুসারে সুষম পুষ্টি গ্রহণই হলো ডায়েট। খাদ্য থেকে আমরা যে শক্তি পাই তার একক হলো ক্যালোরি। কোন খাবারে কত ক্যালোরি আছে, সেটি গুগলে সার্চ করলে আমরা জানতে পারবো।

প্যাকেটজাত খাবারের প্যাকেটের গায়ে ক্যালোরির পরিমান উল্লেখ থাকে। পরিমিত খাদ্য গ্রহণের জন্য কোন খাবারের কত ক্যালোরি সেটি জানা প্রয়োজন।

বর্তমান যুগে সকলেই ফিট থাকার চেষ্টা করে। ছিপছিপে গড়ন, আকর্ষণীয় ফিগার সকলের কাম্য। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে সেটি প্রায়ই হয়ে ওঠে না।

ব্যস্ততার জন্য আমাদের বেছে নিতে হয় বাহিরের খাবার। যার ফলে বেড়ে যাচ্ছে ওজন, শরীরেও দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। ওজন বেড়ে যাওয়া খুবই কঠিন একটি সমস্যা।

আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল জীবনে শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে অনেক, ফলে ওজন বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। কিছু মানুষ সারা জীবন প্রায়ই একই ওজনে থাকেন অর্থ্যাৎ তিনি যে যতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করেন ততটুকুই খরচ করেন।

এর অর্থ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহন করলে আপনার ওজন বাড়বে। কম ক্যালোরি গ্রহন করলে আপনার ওজন কমবে তবে যদি অন্য কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ডায়েট নিয়ে আমাদের  বেশ কিছু ভুল ধারনা আছে। যেমন-

#১। না খেয়ে থাকা

না খেয়ে থাকলেই ওজন কমবে। বিষয়টি এমন নয়। একবেলা না খেয়ে থাকলে পরের বেলায় খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। মানুষ নিজের অজান্তেই বেশি খেয়ে ফেলে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার থেকে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

#২। ব্যায়মের প্রয়োজন নেই

বাড়তি ওজন ঝরিয়ে সুন্দর শরীরের অধিকারী হতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। শুধু কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে আমরা হয়তো ওজন কমাতে পারবো কিন্তু তাতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন চামড়া কুচকে যাওয়া, সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।

সুঠাম দেহের জন্য ব্যায়াম অত্যাবশকীয়। তবে প্রথমেই কঠিন ব্যায়ামের মধ্যে যাবেন না। প্রথম দিকে আপনি পারবেন এমনই কিছু সহজ ব্যায়াম বেছে নিন।

একদিন কঠিন কঠিন ব্যায়াম করে, পরের তিন-চার দিন আর কিছু করতে না পারলে লাভ হবে না। তাই আস্তে আস্তে ব্যায়ামের সময় এবং বিভিন্নতা বাড়ান। চাইলে জীম বা ইয়োগা ক্লাসে ভর্তি হতে পারেন।

আবার ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম গুলো শিখতে পারেন। প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

#৩। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা

ডায়েটের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার চেয়ে বরং বারবার অল্প অল্প খাবার অভ্যাস ভাল। এতে ক্ষুধা কম অনুভব হয়। এছাড়া অনেক সময় ধরে না খেয়ে থাকলে এ্যাসিডিটির সমস্যাও দেখা যায়।

রাতে দেড়ীতে খাওয়াতে আপনার ওজন বাড়ছে এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কররেই আপনার ওজন বাড়বে। তবে খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে পড়ার অভ্যাসের কারণে হজমে সমস্যা করতে পারে।

#৪। ডায়েট মানেই স্বাদহীন খাবার

আমাদের অনেকেরই ধারণা ডায়েটে আছি মানেই সকল প্রকার স্বাদহীন খাবার আমাকে খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গুলো অবশ্যই স্বাদযুক্ত খাবার।

স্বাদেরও আছে নানা ধরণ। খাবারের ভিন্নতা আনুন। রোজ রোজ এক খাবার খেতে কারোই ভাল লাগে না। কম ক্যালোরি যুক্ত মজার মজার রেসিপির জন্য অবসরে ইউটিউবে সার্চ দিন। নতুন স্বাস্থ্যকর খাবার বানিয়ে চমকে দিন পরিবারের সকলকে।

#৫। পর্যাপ্ত পানি না গ্রহণ

সারাদিনের সবকিছু সঠিকভাবে মেনে চললেও, পানি পানে আমাদের অনেকেরই অনীহা থাকে। পর্যাপ্ত পানি আপনার কিডনী, ত্বক, চুলের পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

#৬। বেশি ফলের রস বা দামী খাবার খেতে হবে

প্যাকেটজাত ফলের রসের চেয়ে বাসায় তৈরী ফলের রস খাওয়া বেশি ভাল, তবে আস্ত বা গোটা ফল খাওয়া আরো বেশি ভালো।

গোটা ফল এবং সবজি ফাইবারের কাজ করে, কোষ্ঠ্যকাঠিন্যেও সমস্যা দূর করে। ডায়েটে থাকলে দামী খাবার খেতে হয় এটি একদমই ভুল ধারণা। সাধারণ খাবার খেয়েই আপনি ওজন কমাতে পারেন।

#৭। ওজন কমানোর ঔষধ গ্রহণ করা

ওজন কমানোর ঔষধ গ্রহণ করা একটি মারাত্মক ভুল। সাময়িক ভাবে ওজন কমলেও আবার ওজন বেড়ে যেতে পারে। এই ধরনের ঔষধে নানা রকমের শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি করে।

#৮। প্রতিদিন ওজন মাপা

ওজন কমানোর যাত্রা শুরুর সাথে সাথে আমরা ওজন মাপার মেশিনের ওপর আকৃষ্ট হই মারাত্মক ভাবে।

প্রতিদিনই ওজন মাপি, আর কাংক্ষিত ওজন না দেখতে পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। সপ্তাহে একদিন ওজন মাপার চেষ্টা করুন। ওজন পরীক্ষা যেকোন সময় করা গেলেও, সকালে খালি পেটে টয়লেটের পর ওজন পরিমাপ শ্রেয়।

#৯। দ্রুত ফলাফল আশা করা

ওজন কমানোর জন্য পরিমিত খাদ্য গ্রহণের শুরু থেকেই আমরা চাই দ্রুত ওজন কমাতে।

বাড়তি ওজনের জন্য অনেক কষ্ট হয় এ কথা সত্যি, তবে দ্রুত ওজন কমানো শরীরের জন্য ভীষন ক্ষতিকর।

তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন না। মনে রাখবেন আপনার বাড়তি ওজন একদিনে সৃষ্টি হয় নি, তাই একদিনে যাবেও না।

#১০। হতাশ হয়ে পড়া

কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওজন কমাতে না পারলে হতাশ হবেন না। বরং ভাবুন আপনি চেষ্টা করছেন, যেটা অনেকই করেন না। অনেক সময় ওজন কমাতে কারো কারো বেশি সময় লাগে। মনে রাখবেন সকলের শরীর একই রকম না।

#১১। পছন্দের সব খাবার একদম বন্ধ করে দেওয়া

ডায়েটে চলাকালীন সময়ে “চিট ডে” রাখতে ভুলবেন না। সপ্তাহের একটা বিশেষ দিনে নিজের যে কোন একটি পছন্দের খাবার খান। ক্যালোরি যথাসম্ভব এ্যাডজাস্ট করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন অন্যান্য খাবারের সাথে। চিট ডে আপনাকে ডায়েট ধরে রাখতে উৎসাহ দিবে, একঘেয়েমী দূর করবে।

১২। নিজেকে হেয় মনে করা

নিজেকে ভালবাসতে কখনোই ভুলবেন না। আপনার মেধা, সক্ষমতা, সৌন্দর্য্যরে সাথে ওজনের কোন সম্পর্ক নাই। আপনি যেমন, তেমনই অনন্য। সঠিক ওজন, পরিমিত খাদ্য অভ্যাস আপনাকে সুস্থ রাখবে, রোগহীন থাকতে সাহয্য করবে।

ওজন কমানোর সময় পরিমিত খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই যে ভুলটি করি তা হলো ডায়েটকে সাময়িক সময়ের জন্য মনে করি।

আমাদের ধারণাই থাকে, আগে ডায়েট করে ওজন কমিয়ে, আবার ইচ্ছে মতো খাবার খাবো। আসলে সুস্থ থাকতে গেলে পরিমিত খাবার খাওয়ার এই অভ্যাস আপনাকে চলমান রাখতে হবে আজীবন। তাই স্বাভাবিক এবং সহজ ভাবেই পরিমিত খাবার এবং ব্যয়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।



Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102