মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

শরণখোলার বোবা কান্না স্লুইসগেট: আলী আকবর বাবু

  • আপডেট সময় রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৪৯

শরণখোলায় গত ৪০ ঘন্টা টানা বৃষ্টিপাতের জন্য স্বরনকালের সেরা বন্যায় তলিয়ে গেছে সমগ্র শরণখোলা উপজেলা ও আশপাশের এলাকা প্রথমে ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপাকে যে দক্ষিনাঞ্চলের বন্যা, জলাবদ্ধতা, সিড়র সহ নানারকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আধুনিক স্লুইজগেটের মত উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করার জন্য।

কিন্তু সেই স্লুইসগেট যখন হয় অভিশাপের কারন তখন কতিপয় কর্মকর্তাদের কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের সমালোচনা না করলে অদূর ভবিষ্যৎতে তাদের জন্য দেশ ও জাতির যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শরণখোলায় চলমান বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য রায়েন্দা বান্ধাঘাটের যে অপেক্ষাকৃত ছোট ও অগভীর স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়েছে তা নিস্বন্দেহে ৩/৪টি ইউনিয়নের বন্যার পনি অপসারনের জন্য যথেষ্ট নয়, যার জন্য চরম জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে শরণখোলাবসী। গত তিন দিন ধরে ঘরের মেঝেতে পানি উঠে তলিয়ে গেছে শহস্রাধিক পরিবার এর মধ্যে আবার করোনা সংকট এ এক মহাবিপর্যয়ে শরণখোলা।

ছোট গেটের কারনে পর্যপ্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না তাই আজ এই এলাকার মানুষ পনিতে ডুবে মরছে ও মানবেতর জীবনযাপন করছে এ যেন দেখার কেউ নাই ,এই বন্যার জন্য আমরা শরণখোলাবাসি কৃষি, পশুপালন,ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার মত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। কিছুদিন পর মাঠে ধানবীজ রোপন করা হবে কিন্তু সেই বীজতলা এখন পানির নিচে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হলে সকল ধানবীজ নষ্ট হয়ে যাবে,, আর তাতে ক্ষতির পরিমান ও অভাবনীয়, এ যেন সেই ১৯৮৮ সালের সেই বন্যাকেও হার মানায়,

২০২০ সালেও একই ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে শরণখোলাবাসী।বন্যা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দড়িয়েছে আমাদের জন্য,,, মানুষের খাবার সংকট সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দেয় বন্যায়,, যার ফলে এই এলাকার মানুষের পানিবাহিত রোগসহ স্বাস্থ্যঝুকি রয়েই যায়।

এই সংকটের মধ্যেও শরণখোলাবসীর শেষ আশ্রয়স্থল উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব রায়হান উদ্দিন শান্ত সাহেব এবং সম্মানিত ইউএনও মহোদয় যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন মানুষের পাশে থেকে তাদের খোঁজ খবর ও ত্রান সমগ্রী পৌছে দিয়েছেন। কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর এই যুগে এমন বন্যা প্রায়ই হতে পারে যার জন্য আমাদের স্লুইজগেটের মত সকল সিদ্ধান্ত আরও সতর্কতার সাথে নেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি,”বলে রাখা ভালো যে এর পূর্ববর্তী যে পুরাতন স্লুইজগেটেটি ছিলো সেটি মোটামুটি পানি নিষ্কাশন করতে সক্ষম হলেও চায়না প্রকল্পের এই নতুন গেটটি তা পরছে না”।

তাই এই স্লুইজগেটটি নতুনভাবে আরও আধুনিক ও বড়পরিসরে স্থাপন করে শরণখোলাবাসিকে বন্যার এই করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার দাবি জানাই সর্বশেষ বলতে চাই, এই লেখাটুকু শেয়ার করে সকলকে অবহিত করুন যদি কোন উপরমহলের কারও নজরে আসে তাহলে হয়তো শরণখোলাবাসী স্লুইসগেটের আশীর্বাদ নামক অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

লেখাঃ আলী আকবর বাবু,শরণখোলা,বাগেরহাট।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102