শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

খড়ে তৈরি রেণুর আমিষ জাতীয় খাদ্যের উপকারিতা ও প্রয়োগের মাত্রা |

  • Update Time : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১




খড় প্রয়োগে খড়ের নির্যাসে তৈরী জুওপ্ল্যাঙ্কটন রেণুর সহজ পাচ্য ও আমিষ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ….(শতকে ১ কেজি খড় হিসাবে)

খড়ের (Straw) কাজ:


  • খড় প্রয়োগের ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে এর নির্গত নির্যাস থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির জুওপ্ল্যাঙ্কটন তৈরী হওয়া শুরু হয়; যা’কিনা ‘রেনু’ মাছের প্রাথমিক ও উচু মানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
  • খড় ভিজে গেলে গ্রাস কার্প ও সরপুটি খাওয়া শুরু করে;
  • আধা নিমজ্জিত খড়ের গায়ে প্রচুর ‘পেরিফাইটন’ সৃষ্টি হয় যা’ মাছের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটায়;
  • ৬-৭ দিন পরে খড় আধা-পচা হলে পেরিফাইটন সহ এটিকে ‘রুই’ খাওয়া শুরু করে;
  • পচনের চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত এটি থেকে প্রচুর জৈব নির্যাস নির্গত ও চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি থেকে জৈব সার পাওয়া যায়; যা’ থেকে প্রচুর “জুওপ্লাংক্টন” তৈরী হয়;
  • যে জায়গায় পচনকৃত খড় জমা হয় সেখানে প্রচুর ”কাইরোনমিড” (প্রায় ১৭০০ পতঙ্গ এর জীবনের প্রাথমিক অবস্থা পানিতেই শুরু হয়) সৃষ্টি হয় এবং মাছের গুনগত মান সম্পন্ন আমিষ হিসেবে গৃহিত হয় ( মজার ব্যাপার এই কাইরোনমিড কর্তৃক ভূক্ত খাদ্যের ৭৫% এটির দেহে জমা হয়); এই জায়গায় ‘কাইরোনমিড’ খাওয়ার জন্যে রুই-মৃগেলের সাথে সাথে ‘কার্পিও’ ও ‘মিরর কার্পকে’ও বেশ ঘুরতে দেখা যায়(অবশ্যই উপাদেয় বলেই);
  • পচে যাওয়া খড় ‘কাতলা’ ও ‘মৃগেল’ মাছ অবিরত খেতে থাকে (বাকি রইল কোন মাছ?);
  • খড় প্রয়োগে যে “ফাইটোপ্লাংক্টন” তৈরী হয় সেটির অপূর্ব রঙই ও অবস্থান তা’র গুনগত মান বলে দেয় (সিলভার কার্প ও বিগ হেড এর প্রধান খাদ্য);
  • খড় ঘোলাত্ব দূরীকরণে যে সাহায্য করে সে কথাতো বলায় হয়নি; এছাড়াও আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলছি;
  • খড় পুকুরের পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।পুকুরের পানি ধারণ ক্ষমতা বেশ কম হলে বিশেষ পরিচর্যা হিসেবে শুকনো পুকুরে চুন দিয়ে খড়ের স্তর এবং জৈব সারের স্তর বানিয়ে পানি ঢোকাতে হবে এবং পচানোর ব্যবস্থা করলে পুকুরের পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে;
  • ইউগ্লেনা কমানোর জন্য অনেকে খড়ের দড়ি ব্যবহারের কথা বলেন;

প্রয়োগ মাত্রা:


  • প্রতি শতকে ১ কেজি শুকনা খড় কমপক্ষে ২০-২৫ দিন এর জন্য।
  • “গুড এ্যাকোয়াকালচার প্রাকটিস” কে খড়ের ব্যবহার সাপোর্ট করবে।

পুনশ্চঃ এই লেখার বেশিরভাগই লেখকের স্বীয় অভিজ্ঞতায় অর্জিত।


ছবি ও লেখাঃ কাজী আবেদ লতিফ
সহকারী পরিচালক, মৎস্য বিভাগ









Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102