মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

মিঠাপানিতে হচ্ছে নোনা ট্যাংরার বাণিজ্যিক চাষ

  • আপডেট সময় সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ২৮
মিঠাপানিতে হচ্ছে নোনা ট্যাংরার বাণিজ্যিক চাষ

যশোর প্রতিনিধি ।।

যশোরে মিঠা পানিতে নোনা পানির ট্যাংরার পোনা উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত মৎস্যচাষি ফিরোজ খান। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের পর এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে পুকুর ঘেরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান ২০১৯ সালে তার হ্যাচারিতে নোনা ট্যাংরার কৃত্রিম প্রজনন উৎপাদনের ট্রায়াল শুরু করেন। দুই বছর পর এর সাফল্য পান। চলতি বছর তিনি দেড় কোটি পোনা উৎপাদন করেছেন। এই পোনা নিয়ে পুকুর ঘেরে চাষও করছেন অনেক মৎস্যচাষি। ফিরোজ খান বলেন, ‘একক চাষে পুকুরে বিঘা প্রতি ৬০ হাজার মিশ্রচাষে বিঘা প্রতি ৪০ হাজার পোনা চাষ করা যায়। ফিস ফিড দিয়ে মাত্র চার মাস পরই এই মাছ বাজারজাত করা যায়। গড়ে ২৫টিতে কেজি অনুপাতে মণপ্রতি ১২-১৫ হাজার টাকা বাজারমূল্য পাওয়া যায়। খুচরা বাজারে যার মূল্য দাঁড়ায় ৪০০-৫০০ টাকা কেজি। মৃত্যুর হার কম হওয়ায় মাছ চাষে সহজেই সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিপুল আমিষের চাহিদার একটি বড় অংশও পূরণ করা সম্ভব।’

নোনা পানির ট্যাংরা চাষের জন্য ফিরোজ খানের কাছ থেকে চার লাখ পোনা সংগ্রহ করেছেন যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল। তিনি জানান, প্রথমে সাত বিঘা পুকুরে এই পোনা ছাড়বেন। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল মিললে দেড়শ বিঘার জলাশয়ে এই মাছ ছাড়ার টার্গেট রয়েছে তার।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের মাছের মধ্যে নোনা ট্যাংরা (গুংঃঁং মঁষরড়) অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এক সময় উপকূলীয় প্রাকৃতিক জলাশয়ে এই মাছ প্রচুর পাওয়া গেলেও নির্বিচারে আহরণ পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এর প্রাকৃতিক প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে মাছটির দাম বেড়ে গেছে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের খুলনার পাইকগাছা এলাকার লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেন্দ্র প্রধান ড. মো. লতিফুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালের দিকে এই কেন্দ্র নোনা ট্যাংরা মাছের ব্রিড প্রতিপালন, কৃত্রিম প্রজনন পোনা উৎপাদন কলাকৌশল উদ্ভাবনে সফলতা অর্জন করে। এই গবেষণায় জাতীয় পুরস্কারও অর্জিত হয়। যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নোনা ট্যাংরার পোনা উৎপাদন খুবই ভালো পদক্ষেপ। একইভাবে পাবদা গুলশা মাছেরও পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


Post Views:
3



নিউজের উৎস by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102