সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

শরণখোলায় স্লুইসগেট যখন মরণফাঁদ

  • আপডেট সময় সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ১৯
শরণখোলায় স্লুইসগেট যখন মরণফাঁদ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ।।

বাগেরহাটের শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট এখন এলাকাবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে উপজেলার ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।  ফসলের ক্ষেত, মাঠ, পুকুর, রাস্তা-ঘাট, এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। নির্মাণাধীন বেড়ি বাঁধে অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত স্লুইস গেটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইপি) আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারে বাঁধ পুনঃনির্মাণের কাজ করছে চায়নার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মিত বাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইস গেট রাখা হয়নি। এমনকি যেসব স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে তা অপরিকল্পিত ও আগের চেয়ে সরু। এ অবস্থায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে শরণখোলা উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু স্লুইস গেটগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নামতে না পারায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছয় দিনেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় রান্না-বান্নাসহ মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

এছাড়া আমনের বীজতলা, রোপা আউশ এবং সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল শতভাগই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভেসে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ। সরকারি হিসাবে কৃষি ও মৎস্যখাতে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে জানা গেছে। এছাড়া রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির হিসাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৌদ্ধ শরণখোলায় পরিদর্শনে আসলে তার কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানিবন্দি শত শত মানুষ দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানান। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানবেন বলে আশ্বাস দেন।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একইদিন রাত ৮টায় সংকট নিরসনে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চার ইউপি চেয়ারম্যান, সিআইপি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, অতিবৃষ্টিতে বর্তমানে শরণখোলায় ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে স্থায়ী সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। সুপারিশগুলো রোববার জেলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে সোমবার একনেকের সভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে একটি সুপারিশ প্রেরণ করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটগুলো আগের তুলনায় অনেক ছোট এবং অপর্যাপ্ত। তাই একটি লকগেট এবং কমপক্ষে আরও সাতটি বড় স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন, রায়েন্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ রশিদ আকন জানান, বিগত ২০ বছরেও শরণখোলাবাসী এমন জলাবদ্ধতা দেখেনি। অপরিকল্পিত স্লুইসগেটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পরিকল্পিত এবং পর্যাপ্ত স্লুইস গেট নির্মাণ করা না হলে শরণখোলার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।


Post Views:
36



নিউজের উৎস by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102