শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন? খরচ কমাতে ৭টি সেরা উপায়

  • Update Time : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

Reduce Expenses and Save Money – খরচ কমাতে ৭টি সেরা উপায়

খরচ কমানোর উপায়

টাকা জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। টাকা থাকলে আপনি শুধু যে সচ্ছল একটি জীবন যাপন করতে পারবেন তাই শুধু নয়, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনেও মর্যাদা পাবেন।

টাকা এমনই এক জিনিস, যা আপনাকে স্বাধীনতা দিবে, আত্নবিশ্বাসী করে তুলবে।

অনেকেই আমরা আয় করি এবং টাকা জমাই। সঞ্চয় করার চেষ্টা করি। কিন্তু লাগামহীন খরচের সাথে টাকা জমানোর বিষয়টা যেন রীতিমতো একটি কঠিন যুদ্ধ।

খরচের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়তে লড়তে, কখন যে আমরা সঞ্চয়ের টাকা খরচ করে ফেলি নিজেরাই বুঝতে পারি না। তখন মনে হয় এই মাসে নয়, বরং আগামী মাস থেকেই সঞ্চয় করবো।

বস্তুত, সেই আগামী মাস আর কখনো আসে না আমাদের জীবনে। চাকুরিজীবীদের জন্য এটি ধ্রুব সত্য। ব্যবসায়ীদের আবার হঠাৎ আয়ের সুযোগ থাকলেও ঝুঁকিটাও বেশি। তাই তাদেরও নিত্য নতুন সমস্যার কারনে সঞ্চয় করা হয়ে ওঠে না।

খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়বেই, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তবুও এই খরচকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলে, এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।

বিগত বছরের তুলনায় এই বছর আপনার খরচ বেড়ে গেছে। বাসা ভাড়া থেকে প্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম বেড়েছে কিন্তু আয় বাড়ে নি। তাহলে?

আপনি কি তবে মাসের কিছুদিন না খেয়ে থাকবেন? নিশ্চয় না খেয়ে থাকবেন না। তখন আপনি এমন ভাবেই সংসার চালাবেন যেন মাসের প্রতিদিনই আপনার খাবারের ব্যবস্থা হয়।

আবার ঠিক তেমনই, আয় বৃদ্ধি হলে আমাদের খরচও আরো বেড়ে যায়। যদিও মনে হয়, আয় বাড়লে আর কষ্ট হবে না। কিন্তু আয় বৃদ্ধির আগেই আমরা বাড়তি সেই টাকা নিয়ে কল্পনা করি এবং কোন কোন খাতে খরচ করবো সেটাও ভেবে ফেলি।

ফলে দিনশেষে ফলাফল শূণ্য। আবার তখন আয় বৃদ্ধির অপেক্ষা। অর্থ্যাৎ আপনি নিজে নিজেই আপনার খরচকে নিয়ন্ত্রন করেছেন। এটাই আসল বিষয়।

আমরা বিপদে পড়লে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারি, তবে যদি আগেই সর্তক হয়ে উঠি তবে সুদীর্ঘ সময়ের জন্য লাভবান হতে পারি।

খরচকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেই, আপনি নিয়মিত সঞ্চয় করতে এবং ভবিষৎতের জন্য প্রস্তত থাকতে পারবেন।

কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনে আমরা খরচকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি, বা কিভাবে খরচ কমানো যায় তাই নিয়ে আজকের আমাদের আয়োজন।

#১। আগেই সঞ্চয়ের টাকা সরিয়ে রাখুন

বিষয়টি কঠিন মনে হলেও ব্যয়কে নিয়ন্ত্রন করা এবং সঞ্চয়কে নিয়মিত করার এটাই শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

আর তাই বেতন বা ব্যবসার লাভের অংশ থেকে আগেই সঞ্চয়ের টাকা সরিয়ে রাখুন।

সবচেয়ে ভাল হয় ব্যাংকে বা যেখানে আপনি সঞ্চয় করেন সেখানে টাকা জমা দিয়ে দেওয়া।

একবার টাকা জমা হয়ে গেলে, সেই টাকা খরচ করতে আপনার ইচ্ছে হবে না। তখন আপনি ভাববেন, খুব প্রয়োজন না হলে টাকা উত্তোলন করবো না।

সুতরাং খরচ করার মানসিকতা কমে যাবে এবং সঞ্চয়ও নিয়মিত হবে। কয়েক মাস চেষ্টা করলেই বিষয়টির তাৎপর্য বুঝতে পারবেন।

#২। ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনাকাটা করুন

ধরুন আপনি মার্কেটে যাচ্ছেন, কত টাকা খরচ হতে পারে সেটি অনুমান করে নিয়ে এটিএম কার্ড থেকে আগেই টাকা তুলে রাখুন। সেখান থেকেই খরচ করবেন। এতে আপনার খরচ কম হবে এবং অতিরিক্ত খরচ হবে না।

মার্কেটে গেলে আমরা নিজের অজান্তেই অনেক কেনাকাটা করে ফেলি। তবে যদি এটিএম কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনকাটা করি, তখন আমাদের জিনিসপত্র কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। অপরদিকে আমরা যদি ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনাকাটা করি, সেক্ষেত্রে বারবার টাকা ব্যাগ থেকে বের করতে হয়।

ফলে আমরা বুঝতে পারি যে, অতিরিক্ত ব্যয় করছি এবং এই বিষয়টি সাইকোলজিক্যালি কাজ করে, ব্রেইনে সিগন্যাল পাঠায়। তখন আমরা নিজেরাই খরচ নিয়ন্ত্রন করে ফেলি। এটিএম কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডে ট্রানজ্যাকশনের টাকা সরাসরি লেনদেন হয় না বলেই খরচের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রন থাকে না।

#৩। প্রতিদিনের খরচের হিসাব করুন

জানি শুনে একটু বিরক্ত লাগছে। তবে যদি আপনি করতে পারেন তবে এটি ম্যাজিকের মতই কাজ করবে।

আপনি একটি খাতায় আপনার সারা দিনের কি কি খরচ হয়েছে, সেটি লিখে ফেলুন এবং যোগ করে দেখুন কত টাকা এক দিনে আপনি খরচ করলেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই আপনি আবিস্কার করবেন কি কি বিষয়ে, আপনি কত টাকা অতিরিক্ত খরচ করছেন।

অপ্রয়োজনীয় এই খরচ দেখে আপনার নিজেরই খুব বিরক্ত লাগবে এবং আপনি নিজেই উদ্যোগী হবেন কিভাবে আপনার এই খরচ কমানো যায়।

#৪। খরচ কমানোর জন্য সঞ্চয়ের তালিকা করুন

খরচের হিসাবের মতই সঞ্চয়েরও তালিকা প্রস্তুত করুন। টাকা আমরা ব্যাংকে বা অন্য কোথাও জমালে সেই টাকা দেখতে পাই না। সুতরাং মনের মধ্যে একটি বিক্ষিপ্ত ভাব থাকে।

আপনি যদি সব সঞ্চয়ের টাকার হিসাব রাখতে শুরু করেন এবং প্রতি মাসে মোট কত টাকা জমিয়েছেন সেটি দেখতে পারেন তবে আপনি মানসিক ভাবে তৃপ্ত অনুভব করবেন।

কখনো সঞ্চয়ের ১/২ টি খাত রাখবেন না। সঞ্চয়ের যত বেশি খাত রাখবেন, তত বেশি সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে। আবার বিপদে পড়লে একটি খাত নষ্ট হলেও অন্যগুলি সুরক্ষিত থাকবে।

#৫। কিছু কেনার আগে ৭ দিন ভাবুন

আমরা প্রায়ই এমন অনেক জিনিস কিনে ফেলি যা আমাদের প্রয়োজন নয়। সুতরাং সেই অতিরিক্ত খরচের মাশুল গুনতে হয় সারাটি মাস। তাই কোন কিছু কেনার আগে ৭ দিন ভাবুন, জিনিসটা আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না?

৭ দিন পরেও যদি আপনি জিনিসটার প্রতি একইরকম অনুভূতি কাজ করে, তবে তখন জিনিসটা কিনে কিনুন।

অনলাইনে কিছু পছন্দ হলে সাথে সাথে অর্ডার করবেন না।

বরং প্রডাক্টের ছবিটি সেভ করে ৭ দিন অপেক্ষা করুন, তারপর চিন্তা করে কিনুন।

এর মধ্য দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন কেনা হবে না, তেমনি কিছুদিন পর সেটির দামও কমে যেতে পারে।

#৬। নিজের জন্য অবশ্যই হাতখরচের টাকা রাখুন

নিজের সখ, ভাল লাগা, ঘোরা-ফেরা আনন্দসহ অন্যান্য জিনিসের জন্য অবশ্যই কিছু টাকা বাজেট করুন। এতে করে আপনি নিজের জন্যও অতিরিক্ত খরচ করবেন না। আপনি জানবেন আপনার জন্যও আলাদা বাজেট আছে। সুতরাং হুট করে খরচ করার প্রবনতা কমে যাবে।

#৭। খরচ কমানোর জন্য সঞ্চয় করার মানসিকতা থাকা

টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করা মোটেই সহজ কিছু না, এই কঠিন কাজটি করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী মানসিক মনোভাব থাকতে হবে। কেন সঞ্চয় করবেন এর কারন থাকতে হবে। যেমন হতে পারে এখন সঞ্চয় করবেন একটি গাড়ি কেনার জন্য।

তবে গাড়ি কিনতে অনেক টাকা লাগে তাই আপনাকে সঞ্চয় করার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থাকতে হবে বিনিয়োগ করা। নিজেকে বলতে হবে, এখন কষ্ট করে সঞ্চয় এর মাধ্যমে আমি বিনিয়োগ করব, বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করব। মূল কথা সঞ্চয়ের পিছনে একটি বড় লক্ষ্য থাকতে হবে।

পড়ুন – বিনিয়োগ কি? কেন বিনিয়োগ করবেন

প্রতিনিয়তই চাহিদা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এর মধ্য দিয়েই আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। খরচ কমানো যায় না বলে বসে থাকলে, এক সময় দেখবেন বাড়তে থাকা খরচের চাপে আপনি দিশেহারা। কারণ খরচ বাড়লেও আয় তেমন বাড়ে না।

খরচ এমনই একটি জিনিস, যার নিয়ন্ত্রন আছে আপনারই হাতে। কেউ জোর করে আপনাকে দিয়ে সেটি করাতে পারবে না। প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে।

আপনাকে কিন্তু কেউ অতিরিক্ত খরচ করলে কিছু বলবে না। আবার বিপদের দিনেও কেউই আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না, এটাই সত্যি। বিপদ কখনোই জানিয়ে আসে না।

সুতরাং আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। আপাতত দৃষ্টিতে একটু কঠিন মনে হলেও নিয়মিত ভাবে চেষ্টা করলে এই বিষয়গুলি অভ্যাসে পরিণত হবে। আপনি নিজেই শৃংখলাবদ্ধ হয়ে পরবেন।

খরচ কিছুটা নেশার মতই। আমরা অনেকেই বেতন পাওয়ার আগেই বা কোথাও থেকে টাকা আসার আগেই কি কি খরচ করবো, সেটি ভেবে ফেলি। সেটা না করে যদি আমরা এটা ভাবতে চেষ্টা করি, কত টাকা জমাবো তাহলে বছর শেষে আমাদেরই লাভ।

যতই প্রিয়জন হোক না কেন, টাকা ধার চাওয়ার সময় সবারই অস্বস্তি হয়। আবার প্রিয় মানুষটির সাহায্য করার ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় সাধ্য থাকে না।

সুতরাং, আত্মনির্ভরশীল হওয়াই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel 



Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102