শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৭ অপরাহ্ন

গড়িমসি না করে সময়ের মূল্য দিতে পারলেই সফলতা!

  • Update Time : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

সময়ের মূল্য

আপনি জানেন কি, এমাজন ডট কমে প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোজের প্রতি সেকেন্ডের আয় ৯৩ হাজার টাকা। সফল হতে চাইলে কাজের কোন বিকল্প নেই। জীবনে কিছু অর্জন করতে হলে, আমাদের পরিশ্রম করতেই হবে। কিন্তু কাজ করতে ভাল লাগে না একথা প্রায়ই আমরা সবাই বলি। তবে কাজ না করলে জীবনে সফলতা আসবে না সেটাও আমরা সবাই মানি। আমাদের মধ্যে আরো একটি প্রবৃত্তি আছে, কাজ ফেলা রাখা।

সময়ের সৎব্যবহার, সময়ের মূল্য খুব ছোট বেলা থেকেই এমন রচনা, ভাব-সমপ্রসারণসহ অনেক কিছু পড়লেও ব্যক্তিগত জীবনে আমরা খুব কম লোকই সেটি ব্যবহার করতে পারি।

জানা শুধু জানা থেকেই যায়, বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ হয় না। সফল হতে কে না চায় বলুন তো? আমরা সবাই সফল হতে চাই। কিন্ত পারি না। কেন?

সফল মানুষদের নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা আরো ২ টি হাত বা পা বেশি দেন নি। সকলের ব্রেইনের পরিমাণও একই।

তাহলে?

নিশ্চয় সফল ব্যক্তিরা এমন কিছু করে যার জন্য তারা অন্যদের থেকে আলাদা।

সফল ব্যক্তিদের জীবন বিশ্লেষণ করলে আমরা এমন অনেক তথ্য পাব। সফল ব্যক্তিরা কখনোই তাদের কাজ ফেলে রাখে না।

সময়ের কাজ সময়ে করে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাজ করে রাখে। আর এই গুণই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, সফলতার মুকুট পড়ায়।

আমরা সবাই কাজ করি। প্রতিদিনই করছি। একই কাজ করে কেউ জীবনে অনেক কিছু অর্জন করে, কেউ বা অর্জন করতে পারে না।

একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন, ছোটবেলায় যে সহপাঠী প্রথম হত, তার জন্য দিনের পরিমান ২৪ ঘন্টাই ছিল, অন্যদের জন্যও একই। স্ক’লের সময়, স্যারদের ব্যাচ সবই ছিল এক। তবুও সে কেন অন্যদের তুলনায় এত ভাল করতো এবং ধারাবাহিক ভাবেই করত।

কারণ সে সময়ের মূল্য দিত। দিনের পড়া, দিনেই শেষ করে রাখত। ফলে পরীক্ষার সময় অন্যরা যখন পড়া মুখস্ত করছে, সে তখন পড়া রিভাইজ করছে।

আর তাই, তার কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল সে পেয়েই যেত। জীবন এমনই আপনি যেমন দিবেন, তেমনই পাবেন।

ভাল ছানার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভাল দুধের ব্যবহার করতে হবে।

মিষ্টির জন্য আপনাকে অবশ্যই চিনি দিতে হবে খাবারে।

অল্প চিনি দিয়ে বেশি মিষ্টি আশা করা নিছক বোকামি।

সময়ের কাজ সময়ে করতে পারলে আপনার কখনোই অতিরিক্ত কাজ হাতে থাকবে না।

লক্ষ্য করলে দেখবেন, ৯-৫ টার অফিস টাইমে কেউ কেউ ঠিক ৫ টায় অফিস ত্যাগ করে, কেউ কেউ ৭ টা পর্যন্ত অফিস করে থাকে।

এখন বিষয় হল, কে ভাল কর্মী?

৭ টা পর্যন্ত যিনি কাজ করছেন আপাতত দৃষ্টিতে সে ভাল হলেও আসলে তিনি কখনোই ভাল কর্মী নয়।

একটি অফিসে আপনাকে সেই পরিমাণ কাজই দেওয়া হয়, যে পরিমাণ কাজ সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে পারবে। অতিরিক্ত কাজ সবসময় দেওয়া হয় না।  ৭ টা পর্যন্ত যিনি কাজ করছেন তিনি সময়ের সঠিক ব্যবহার করেন নি।

তিনি নিশ্চয় অফিসের টাইমে গল্প বা অন্য কাজ করে সময় অপচয় করেছেন। আর যিনি ৫ টার মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পেরেছেন তিনি অবশ্যই প্রতিটি কাজ সময় মতো করেছেন। প্রতিদিন দেরি করে অফিস ত্যাগ করা অর্থই যে তিনি ভাল কর্মী এমন নয়।

বরং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এটি নেতিবাচক দৃষ্টিকোণে দেখা হয়। আবার যদি এভাবে চিন্তা করি, দেরীতে অফিস থেকে বের হলে তার বাসায় ফেরাও দেরিতে হবে। ফলে পরিবারের জন্য সময় কমে যাবে, ব্যক্তিগত সময়ও কমে আসবে। আরোও পড়ুন – ইতিবাচক মানসিক মনোভাব অর্জনের ৫টি সহজ উপায়

একটু অবহেলায়, একটু অসচেতনতায় তার প্রফেশনাল সহ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।

কাজ না করার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক যুক্তি থাকে। যেমন-

১। এখন থাক, একটু পর করবো।

২। কাল থেকে শুরু করবো।

৩। একটু পরে করলে কি হয়?

বস্তুুত, এই একটু পর, আগামীকাল, পরের করার এই সময়টা আমাদের আর কখনোই হয়ে ওঠে না। কাল থেকে করবো না ভেবে আজ এখনই শুরু করুুন।

একটু পরে না করে এখনই কাজে হাত দিন। একদিন পরে কাজ করলে আপনি য়ে একদিন পিছিয়ে গেলেন নিজেকে সেই শিক্ষা দিন।

আজ মানে আজ, এখনই। অনেকেই দেখবেন সঞ্চয় করতে পারে না। তাদের কাছে সবসময় অজুহাত থাকে। পরিশেষে তারা বলে সামনের মাস থেকে করবো। সেই মাস আর কখনোই আসে না। কিন্তু যদি সে ভাবত একমাস সঞ্চয় করলে, আমি একমাস এগিয়ে গেলাম, কিছু অর্থ জমাতে পারলাম তবে ভবিষৎতে সেই লাভবান হত।

বৈজ্ঞানিক মতে একটি নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে আমদের কমপক্ষে ২১ দিন লাগে। সুতরাং একদিনেই আপনি সব পারবেন এমন নয়। তবে  চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। আজ যা কঠিন লাগছে, নিয়মিত চেষ্টা করলে সেটিই আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে।

কাজ ফেলে না রাখার জন্য এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য দৈন্দদিন জীবনে কিছু রুলস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১। সিদ্ধান্ত নিন

আগে সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি করতে চাইছেন।

জীবনে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আপনার জীবনে কেউ সফলতা এনে দিবে না।

আপনাকেই সেটি অর্জন করতে হবে।

কি কি করতে চান সেই সিদ্ধান্ত নিন।

আগামীকাল কি কি কাজ আছে সেটি আগের দিন রাতেই চিন্তা করুন।

সবচেয়ে ভাল হয় কাজগুলো কাগজে লিখে ফেলতে পারলে।

তাহলে কাজ গুলো শেষ করা আরো সহজ হয়ে ওঠে।

আপনি জানেন কি? সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি দক্ষতা  

২। পরিকল্পনা করুন এবং সেই মত কাজ করুন

কাজের পরিকল্পনা করুন। একটি কাজের সফলতার অনেকটাই নির্ভর করে একটি পরিকল্পনার উপর। তাই মাথা ঠান্ডা করে কাজের পরিকল্পনা করুন।

কি কি কাজ , কখন কখন করবেন, কিভাবে করবেন, কত সময়ের মধ্যে শেষ করবেন সেই বিষয়ে আগেই পরিকল্পনা করুন। পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করুন। কেননা, যারা সফল এবং সম্পদশালী তারা আলাদাভাবে পরিকল্পনা ও চিন্তা করে

ধরুন, এক ব্যক্তির ব্যবসা সংক্রান্ত কাজের জন্য ২০ জনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি প্রতিদিন রাতেই আগামীকাল ফোন দিবেন এমন ৩ জনের নাম ফোন বুকে লিস্ট করেন এবং যথারীতি পরদিন সকালে ভুলে যান। আবার পরেরদিন রাতে এমন পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার কি আদৌও কোন মূল্য আছে?

পরিকল্পনাকে অবশ্যই কাজে লাগেেত হবে। কাজের প্রয়োজনে হয়তো একদিন তিনি সবার সাথেই যোগাযোগ করবেন তবে সেদিন কাজের প্রেসার অনেক বেড়ে যাবে এবং সময় স্বল্পতার কারণে হয়তো আশানুরূপ ফলাফল পাবেন না।

অথচ তিনি যদি প্রতি দিন ৩ জনকে ফোন দিতেন মাত্র ৭ দিনেই তিনি কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারতেন।

৩। কাজের ধরণ বুঝে গুরুত্ব দিন

সারাদিনে আমাদের অনেক কাজ করতে হয় কিন্তু সব কাজ একই রকম না। কোন কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটি তুলনামূলক কম। তাই কাজের ধরণ বুঝে গুরুত্ব দিন। বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন।

যদি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে নাও পারেন তবুও যেন কোন বড় ক্ষতি না হয়। ছোট একটি কাজ পারফেক্ট ভাবে করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

৪। সাথে সাথে শুরু করুন

কাজ সাথে সাথে শুরু করুন। একটু চা খেয়ে তারপর পড়তে বসবো, একটু নিউজটা দেখে নেই, খেলার স্কোরটা শুধু দেখে আসি এমন করবেন না।

কাজটি আগে শেষ করেও আপনি এই সব বাকি কাজ করতে পারবেন। সুতরাং কাজ পাওয়ার সাথে সাথে কাজ করা শুরু করুন। আজ মানে আজ, কোনভাবেই কাল না।

৫। নিজেকে প্রশ্ন করুন

সারাদিন শেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। জিজ্ঞেস করুন আজ সারাদিন কি কি করলেন, কি অর্জন ছিল, কি কি ভুল ছিল, কি কি শিখলেন।

এই ছোট একটি কাজ আপনাকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করবে। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কোথায় কোথায় আপনাকে আরো ভাল করতে হবে।

সফল হওয়ার জন্য প্রতিটি দিন, প্রতিটি সময় মূল্যবান। একবার ভেবে দেখুন, জীবন থেকে যে সময় চলে গেছে, সে সময় কি আর ফিরে আসবে কখনো? না আসবে না। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই মূল্যায়ন করুন। সময়ের মূল্য দিতে শিখুন, সফল হবেনই। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel 



Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102