মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

শিং ও মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজননে করণীয় | Adhunik Krishi Khamar

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১


শিং ও মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজননে করণীয় যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের দেশের অনেক মৎস্য চাষিরই জানা নেই। আগের দিনে নদী বা জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে শিং ও মাগুর মাছের দেখা পাওয়া যেত। তবে এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। তা মাছ চাষিরা পুকুরে এসব মাছের চাষ করছেন। আজকের এই লেখাতে আমরা জানবো শিং ও মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজননে করণীয় সম্পর্কে-

শিং ও মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজননে করণীয়ঃ


১। পুকুর খেকে পরিপক্ব স্ত্রী ও পুরুষ মাছ ১:১ হারে উঠিয়ে হ্যাচারিতে রেখে ৮-১০ ঘণ্টা খাপ খাওয়ানোর জন্য বিশ্রাম দিতে হয়। এ সময় পানির উচ্চতা ২-৩ ফুট রাখা হয় ও ঝর্ণার মাধ্যমে হালকা স্রোত সৃষ্টি করতে হয়।

২। স্ত্রী মাছকে ১০০-১৩০ মিলিগ্রাম পিজি/কেজি হিসাবে একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করা যায়। আবার স্ত্রী মাছকে প্রথম ইনজেকশন পিজি ৬০-৭০ মিলিগ্রাম/কেজি অথবা ওভাপ্রিম বা সুপ্রিম ২ মিলিগ্রাম/কেজি অথবা এইচসিজি ৫০০০ আইইউ (১০ মিলি দ্রবণ)/২.৫ কেজি অথবা প্রতি ভায়েল ওভুপিন এর ১০ মি.লি. দ্রবণ/ ৫কেজি মাছ হিসাবে এক ডোজে মাছের লেজের অংশে ৩০-৪৫ ডিগ্রি কোণে ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়।

৩। একই সাথে পুরুষ মাছকেও পিজি ২০-৩০ মিলিগ্রাম/কেজি অথবা ওভাপ্রিম বা সুপ্রিম ১ মিলিগ্রাম/কেজি অথবা এইচসিজি ৫০০০ আইইউ (১০ মিলি দ্রবণ)/৫ কেজি অথবা প্রতি ভায়েল ওভুপিন এর ১০ মি.লি. দ্রবণ/ ১০ কেজি মাছ হিসাবে একইভাবে ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়।

৪।  তবে আমার পরিচিত একজন এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের অভিমত হল, স্ত্রী মাছকে প্রথম ইনজেকশন ৫০ মিলিগ্রাম পিজি/কেজি হিসাবে প্রয়োগ করে ৬-৮ ঘণ্টা পর ১০০ মিলিগ্রাম পিজি/কেজি হিসাবে দ্বিতীয় ইনজেকশন প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। স্ত্রী মাছের দ্বিতীয় ইনজেকশনের সময় পুরুষ মাছকে ৫০ মিলিগ্রাম পিজি/কেজি হিসাবে প্রয়োগ করলে অধিক পরিমাণ মিল্ট পাওয়া যায়।

৫। ইনজেকশন প্রয়োগ সন্ধ্যায় করা ভাল। ইনজেকশন দেয়ার পর হালকা ঝর্ণায় মৃদু স্রোত সৃষ্টি করে স্ত্রী ও পুরুষ মাছ ১:১ অনুপাতে গোলাকার ট্যাংকে বা সিস্টার্নে রেখে দিতে হয়। এ সময় অন্ধকার পরিবেশ সৃষ্টি ও পানির উচ্চতা ২-৩ ফুট রাখতে হয়। মাছকে বিরক্ত না রে শান্তিতে থাকতে দিতে হয়।

৬।  স্ত্রী মাছকে দ্বিতীয় ইনজেকশন দেওয়ার ৯-১২ ঘণ্টার মধ্যে মতান্তরে ১০-১৬ ঘণ্টার মধ্যে ডিম দিয়ে থাকে।

৭।  স্ত্রী মাছের ডিম দেওয়ার সময় তাৎক্ষনিকভাবে পুরুষ মাছের পেট কেটে শুক্রাশয় বা টেস্টিস বের করে কাঁচি দিয়ে কুচি কুচি করে কেটে ০.২৫ লবণ দ্রবণে মতান্তরে ০.৮৫% লবণ দ্রবণে মিশিয়ে শুক্রাণুর দ্রবণ তৈরি করতে হবে।

৮। ডিম সংগ্রহ ও টেস্টিস দ্রবণ তৈরির কাজ দুটি একসাথে দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ ৩-৪ মিনিটে করা ভাল, তবে তা সম্ভব না হলে আগে মাছের টেস্টিস কেটে দ্রবণ তৈরি করে নিয়ে পরে ডিম সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় ডিম দ্রুত জমাট বেঁধে যাবে।

৯। স্ত্রী মাছে পেটে চাপ দিয়ে ডিম বের করে একটি শুকনা খালি পাত্রে সংগ্রহ করে তার উপর শুক্রাণু সংবলিত টেস্টিস দ্রবণ মিশিয়ে ঐ ডিম নিষিক্ত করা হয়।


আরও পড়ুনঃ করোনায় বিপাকে নরসিংদীর মৎস্য খামারিরা


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102