শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চালের বস্তায় নিষিদ্ধ পলিব্যাগের ব্যাবহার ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করায় রোগীর শরীরে জ্বালাযন্ত্রনা ফার্মেসী সিলগালা:পলাতক গ্রাম্য চিকিৎসক বাংলাদেশকে জানতে হলে আগে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে ….এমপি মিলন সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর নদীর পাড়ে শাড়ি পরে দুর্দান্ত ড্যান্স দিলো সুন্দরী যুবতী যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন – মোস্তাফা জব্বার – টেক শহর বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ফেবারিট মানছেন আর্জেন্টাইন তারকা – স্পোর্টস প্রতিদিন বিশ্ববাজারে আবারও কমল জ্বালানি তেলের দাম গর্তে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরটি দেখলো চাষী ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে

কৃমি ও চুলকানি নিরাময়ে অনন্য ভেষজ উদ্ভিদ ভাঁট | Adhunik Krishi Khamar

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
কৃমি ও চুলকানি নিরাময়ে অনন্য ভেষজ উদ্ভিদ ভাঁটফুল




অনাদার আর অবহেলায় বুনো পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফুল হলো ‘ভাট’।এ ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রেমিদের সহজেই আকৃষ্ট করে। ‘ভাটফুল’ নামেই বেশি পরিচিত।‘ঘেটু’ কিংবা ‘বনজুঁই’ নামেও কেউ কেউ ডাকে। প্রাচীনশাস্ত্র পূরাণের ‘ঘন্টাকর্ণ’ থেকে ‘ঘেটু’ নামের উৎপত্তি। দেবতা শিবের রুদ্রানুচর ছিলেন ‘ঘন্টাকর্ণ’। রুদ্রানুচরের পত্নী ছিলো দেবী ‘শীতলা’। তখন বসন্তকালে আবহমান গ্রামবাংলায় মানুষের ‘বসন্তরোগ’ দেখা দিতো।আর সে কারণেই সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ও আরোগ্য কামনায় বসন্তকালে চৈত্রসংক্রান্তিতে দেবী শীতলার পূজার সাথে ‘ঘন্টাকর্ণ’ বা ‘ভাটপূজা’ করতো।

ভাট বা ঘেটু গুল্ম জাতীয় বুনো পুষ্পক ক্ষুদ্রাকৃতির ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ। পাতা সরু, প্রান্ত খন্ডিত রোমশ, হৃদপিন্ডাকার এবং অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। কান্ড শক্ত ও সোজাভাবে দন্ডায়মান, সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। উদ্ভিদটি Verbenaceae পরিবরের অন্তর্গত যার বৈজ্ঞানিক নাম Clerondendron viscosum । তবে ‘ভাট’ হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত হলেও ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে আলাদা স্থানীয় নামে পরিচিত। যেমন- ভাইট, ভাটী, ভাইদোরা, কুইদিন প্রভৃতি। ইংরেজিতে Hill glory flower, সংস্কৃতে ঘণ্টাকর্ণ বা বাণবিড় বলে।

চিরচেনা বসন্তের বুনোফুল ‘ভাট’ গ্রামে মেঠো পথের ধারে, পতিত জমিতে ঝোপে-জঙ্গলে সহজেই সবার নজর কেড়ে নেয়। কবি জীবনানন্দের ভাষায়-“ভাট আঁশ শ্যাওড়ার বন/বাতাসে কী কথা কয় বুঝি নাকো, বুঝি নাকো চিল কেন কাঁদে; পৃথিবীর কোনো পথে দেখি নাই আমি, হায়, এমন বিজন…”। মার্চ-এপ্রিল মাসে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। মৌমাছি ও ভ্রমর গুনগুন শব্দে ভাট ফুল থেকে মধু আহরণ করে। ফুল সাধারণত সাদা রঙের তবে বেগুনি রঙেরও হয়ে থাকে। প্রতিটি ফুলে পাঁচটি করে পাপড়ি থাকে। পাপড়ির গোড়ার দিকটা হালকা বেগুনি রঙের। ফুলে রঙের ঢেউ দেখে মনে হয় যেন ব্রাশ দিয়ে লম্বা রেখা টেনে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ফুলেই চারটি করে পুংকেশর সামনের দিকে বেরিয়ে আসে।পুংকেশরের অগ্রভাগ স্ফীত ও কালো।দিনের বেলা হালকা এবং রাতে মিষ্টি সৌরভ ছড়ায়। ফুলের নিচের লাল রঙের বৃন্তগুলোর ভেতর একটি কালো ফল হয়। ফল ড্রপ।

ভাট ভেষজ গুণ সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসী সমাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পাতা, কান্ড ও শেকড় ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভাট পাতার রস তিতা, তিতার কারণেই পাতার রস খেলে ক্রিমি নাশ হয়। এতে ক্লিরোডোলন, ক্লিরোডেন এবং কিলোস্টেরল সহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা ক্যানসার নিরাময়ে সহায়ক বলে জানা যায়। এছাড়াও কৃমি, চুলকানি, উদরাময়, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ নিরাময় করে।


লেখকঃ সুশান্ত কুমার রায়


প্রকৃতির দান / আধুনিক কৃষি খামার









Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102