শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চালের বস্তায় নিষিদ্ধ পলিব্যাগের ব্যাবহার ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করায় রোগীর শরীরে জ্বালাযন্ত্রনা ফার্মেসী সিলগালা:পলাতক গ্রাম্য চিকিৎসক বাংলাদেশকে জানতে হলে আগে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে ….এমপি মিলন সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর নদীর পাড়ে শাড়ি পরে দুর্দান্ত ড্যান্স দিলো সুন্দরী যুবতী যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন – মোস্তাফা জব্বার – টেক শহর বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ফেবারিট মানছেন আর্জেন্টাইন তারকা – স্পোর্টস প্রতিদিন বিশ্ববাজারে আবারও কমল জ্বালানি তেলের দাম গর্তে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরটি দেখলো চাষী ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে

শেয়ার বাজারে লভ্যাংশ নীতি Dividend Policy in Share Market

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শেয়ার বাজারে লভ্যাংশ নীতি

শেয়ার বাজারে লভ্যাংশ নীতি

আমরা যারা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করি তারা সবাই লভ্যাংশ বা Dividend এই শব্দের সাথে পরিচিত। লভ্যাংশের সহজ মানে হলো লাভের অংশ।

যে কোনো কোম্পানি লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে লাভ অর্জন করে। আমরা যখন একটি কোম্পানির যে কোন পরিমান শেয়ার কিনব তখন আমরা ঐ কোম্পানির আংশিক মালিক।

আমরা যদি একটা কোম্পানি একটা শেয়ারও কিনি তাহলেও আমরা ঐ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার। এখন শেয়ারহোল্ডার অর্থাৎ কোম্পানির মালিক হিসেবে আমাদেরকে যে লাভের অংশ দেওয়া হয় সেটিই লভ্যাংশ।

কোম্পানির পরিচালকগণ আমাদের জন্য অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে ঠিকই, তবে তাঁদের অবশ্যই লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নীতি অনুসরণ করতে হয়। এটিই লভ্যাংশ নীতি বা Dividend Policy। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা লভ্যাংশ নীতি নিয়ে আলোচনা করা করব।

আমরা জানি শেয়ারহোল্ডারগণ কোম্পানির অর্জিত মুনাফার মালিক। তারা কোম্পানির মালিক হলেও লাভের পুরো অংশই তাদের মাঝে বিতরণ করা হয় না।

সাধারণতঃ লাভের একটি অংশ লভ্যাংশ হিসেবে মালিকের মাঝে বিতরণ করা হয় এবং অপর অংশ ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর কাজে সংরক্ষিত আয় হিসেবে রেখে দেওয়া হয়।

এই সংরক্ষিত আয় কোম্পানির চলতি মূলধন বা working capital হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন প্রশ্ন হলো, কোম্পানির অর্জিত মুনাফার কী পরিমাণ শেয়ার হোন্ডারদের মাঝে বিতরণ করবে এবং কী পরিমাণ সংরক্ষিত আয় হিসেবে নিজের কাছে রাখবে? আর্থিক ব্যবস্থাপকের জন্য এই সিদ্ধান্তটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে লভ্যাংশ সিদ্ধান্ত বা dividend decision বলা হয়।

সংরক্ষিত আয় কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সম্পদের অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে লভ্যাংশ বা dividend পাওয়ার ব্যাপারে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি।

তাই লাভের সবটাই সংরক্ষিত আয় হিসাবে রুপান্তর করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি করলেই চলবে না, লভ্যাংশও প্রদান করতে হবে।

লভ্যাংশ নীতির দু’টি উদ্দেশ্য রয়েছে; যেমন- শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণ করা এবং অন্যটি কোম্পানির প্রবৃদ্ধি বা growth ঘটানোর জন্য সংরক্ষিত আয় হিসেবে লাভের অংশ ব্যবসায়ে রেখে দেওয়া।

তাহলে একটা বিষয় আমাদের কাছে পরিস্কার যে, এই দুইটি মধ্যে পরস্পর বিরোধী প্রভাব আছে। কেননা বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করলে সংরক্ষিত আয় কমে যাবে। ফলে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সম্পদের ব্যবহার কম হবে এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে।

অপরদিকে কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে সংরক্ষিত আয় বেড়ে যাবে। ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদের ব্যবহার বাড়বে এবং কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ঘটবে। প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে বাজারে কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি পাবে, অর্থাৎ, শেয়ারের, বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

যেকোনো কোম্পানির লভ্যাংশ নীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। তবে প্রায় সকল কোম্পানি যে লভ্যাাংশ নীতিটি অনুসরণ করে তা হলো মুনাফার একটি অংশ সংরক্ষিত আয়  হিসাবে রাখা এবং অবশিষ্ট অংশ শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করা। মূলতঃ এটিই একটি আদর্শ লভ্যাংশ নীতি।

কোম্পানির লভ্যাংশ নীতির উপর প্রভাব ফেলে যেসব উপাদান

#১। শেয়ারহোল্ডারদের ইচ্ছা বা আশা-আকাঙ্খা

কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদান করবে কি করবে না তা মূলতঃ পরিচালকদের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কোম্পানি লাভ করলেই লভ্যাংশ দিতে হবে এমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। পরিচালকগণ ইচ্ছা করলে লাভের পুরো অংশ লভ্যাংশ আকারে বিতরণ করতে পারবে।

আবার লাভের অংশ বিশেষ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। শেয়ার হোল্ডারগণ যেমন কোম্পানির মালিক, তেমনি ভাবে পরিচালকগণও কোম্পানির মালিক। পার্থক্য শুধু কোম্পানি চালানোর জন্য পরিচালকগণ শেয়ার হোল্ডারদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি মাত্র।

তাই, পরিচালকদের কোম্পানির স্বার্থ এবং শেয়ার হোল্ডারদের ইচ্ছা উভয়ের উপরই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান না করলে কোম্পানির অর্জিত মুনাফা কোম্পানির সংরক্ষিত আয় হিসাবে ব্যবহার করা হবে।

ফলস্বরুপ, কোম্পানির সম্পদ বৃদ্ধি পায়, যা কোম্পানির শেয়ারের, বাজার মূল্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। একটা ভালো কোম্পানি শুধুমাএ কোম্পানির স্বার্থ নিয়ে পড়ে থাকে না, তারা শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখে।

একজন সাধারন বিনিয়োগকারী হিসাবে আমরা যেমন কোম্পানি লাভ করুন এটা চাই ঠিক তেমনি কোম্পানি আমাদেরকে লাভের একটা অংশ প্রতিবছর লভ্যাংশ বা Dividend হিসাবে দিবে তাও চাই।

আরো পড়ুন-

#২। কোম্পানির আর্থিক প্রয়োজনীয়তা

লভ্যাংশ নীতি নির্ধারণে শুধুমাত্র শেয়ার হোল্ডারদের আগ্রহকে পরিচালকগন প্রাধান্য দেয় না।  শেয়ার হোল্ডারদের আগ্রহের সাথে কোম্পানির আর্থিক দরকারকে প্রাধান্য দেয়। এই দু’টি বিষয় পরস্পর বিরোধী।

লভ্যাংশ নীতি নির্ধারণে পরিচালকগণ কোম্পানির আর্থিক প্রয়োজনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।  বিশেষ করে কোম্পানির হাতে যখন লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ তখন সংরক্ষিত আয়ের উপর গুরুত্ব দেয়।

তারপরও ভালো কোম্পানি যতই লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ পায় না কেন, শেয়ারহোল্ডারদের আগ্রহকে গুরুত্ব দেয়। তাই ১০০% লভ্যাংশ বা ১০০% সংরক্ষিত আয় কোনটিই সমীচীন নয়। এই ক্ষেএে, পরিচালকদের হাতে বেশি শেয়ার থাকা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লাভের সুযোগ বেশি থাকে।

#৩। শেয়ার বাজারে লভ্যাংশ নীতি কিছুটা নির্ভর করে তারল্যের উপর 

নগদ টাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে হাতে থাকার অর্থ হলো অধিক তারল্য। সুতরাং তারল্য বেশি থাকলে বেশি লভ্যাংশ দেওয়া যায় এবং তারল্য কম থাকলে লভ্যাংশ প্রদানে অসুবিধা হয়। একটি ভালো কোম্পানি সবসময় তারল্য অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করে এবং অধিক লভ্যাংশ দিতে পারে।

#৪। বিনিয়োগ সুযোগ

কোম্পানির কাছে শেয়ার হোল্ডার এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একটা কোম্পানি যদি লাভে থাকার পরও যথেষ্ট ডেভিডেন্ট না দেয় তাহলে শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং বিনিয়োগকারীরা সেই শেয়ার বিক্রি করে দিতে চায় তবে শেয়ারের দাম সাময়িক সময়ের জন্য কমে যেতে পারে।

আবার অন্যদিকে কোম্পানি যদি ভালো একটা বিনিয়োগ সুযোগ হাতছাড়া করে তাহলে কোম্পানির গ্রোথ কমে যেতে পারে যা কোম্পানিকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।

একটি ভালো কোম্পানির কাছে যদি বিনিয়োগ সুযোগ অপ্রত্যাশিত ভাবে আসে তাহলে লভ্যাংশ দিয়ে এবং বিনিয়োগ সুযোগের সদ্ব্যবহারের জন্য বাইরের তহবিল সংগ্রহ করে ব্যবসা চালিয়ে যায়। বাইরের তহবিল

অর্থাৎ, তারা ব্যাংক লোন বা অন্য কোনো তহবিল সংগ্রহ করার চেষ্টা করে।  তাই এই বিনিয়োগের সুযোগ এই বিষয়টি লভ্যাংশ নীতিতে ভুমিকা রাখে।

#৫। মুদ্রাস্ফীতি

মুদ্রাস্ফীতি পরোক্ষভাবে কোম্পানির লভ্যাংশ নীতির উপর প্রভাব ফেলে। আমাদের দেশের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি মূলতঃ ঐতিহাসিক বা অতীত খরচ এর উপর ভিত্তি করে করা হয়।

সে কারণে ব্যবসায়ের গতিকে অব্যাহত রাখার জন্য লাভের একটি অংশ কোম্পানিগুলো রেখে দেয়।

তবে সমস্যা হয় তখনই যখন দরকার বা প্রয়োজন ছাড়া কোন কোম্পানি যদি লভ্যাংশ বা Dividend কম দেয়। সাধারনত ভালো কোম্পানিগুলো, শেয়ার হোল্ডার ও কোম্পানি উভয়ের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়।

শেষ কথা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে সফল হতে চাইলে আমাদেরকে টাকার সাথে মেধা ও সময় বিনিয়োগ করতে হবে। শুধুমাএ টাকা থাকলেই লাভ করা যায় না, আবার মেধা থাকলেই লাভ করা যায় না।

যখন এই দু’ইয়ের মধ্যে মিশ্রন ঘটিয়ে শেয়ার বাজার সম্পর্কে, কোম্পানি সম্পর্কে ভাল ধারনা নিয়ে বিনিয়োগ করব তখনই লাভ করতে পারব।

একটা কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে তাদের অতীতের লভ্যাংশ বা Dividend দেওয়ার ইতিহাস দেখে নেওয়া উচিত। তবে মনে রাখতে হবে, বিগত দিনে ভালো লভ্যাংশ বা Dividend দেওয়া বা না দেওয়ার উপর একমাএ ভিত্তি করে শেয়ার কেনা যাবে না। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel  



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102