মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

শেয়ার বাজারে হল্টেড কি কেন হয়

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শেয়ার বাজারে হল্টেড কি কেন হয়

শেয়ার বাজারে হল্টেড কি কেন হয়

ইংলিশ শব্দ Halted এর সহজ বাংলা স্থগিত। আমাদের দেশে শেয়ার বাজারে একটি কোম্পানি শেয়ারের দাম এক দিনে কত শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে না নির্ধারণ  করা আছে। যাকে আমরা সার্কিট ব্রেকার নামে জানি।

যেমন,  ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার দাম এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দাম সেগুলো ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে। ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দাম সেগুলো সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে যেসব কোম্পানির শেয়ার দাম রয়েছে সেগুলো ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত যেসব কোম্পানির শেয়ার দর সেগুলো ৫ শতাংশ এবং ৫০০০ টাকার উপরে কোম্পানির শেয়ার দাম একদিনে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারে।

যখন একটি কোম্পানির দাম তার সার্কিট ব্রেকারে থাকে কিন্তু ক্রেতা বা বিক্রেতা থাকে না সেই অবস্থাকে আমরা শেয়ার বাজারে হল্টেড বলতে পারি। হল্টেড দুই ভাবে হতে পারে, একটি পজিটিভ হল্টেড অন্যটি নেগেটিভ হল্টেড। আসুন একটা উদাহরনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি।

ABC কোম্পানির একটা শেয়ার দাম আজকে ২০ টাকা। তাহলে এর সার্কিট ব্রেকার ২টি, একটি Lower Limit অন্যটি Upper Limit।

অর্থাৎ, আজকে এক দিনে এই শেয়ারটি দাম সর্বোচ্চ ২২ টাকা হতে পারবে এবং সর্বনিন্ম দাম ১৮ টাকা হতে পারবে। ধরুন, ২২ টাকা দামে অনেক ক্রেতা বা buyer আছে যারা ২২ টাকা দিয়েই শেয়ার কিনতে চাচ্ছে কিন্তু বিক্রেতা বা seller নেই, বিক্রেতাগন এই দামেও বিক্রি করতে রাজি না, এই যে অবস্থা একে আমরা পজিটিভ হল্টেড বলতে পারি।

অন্যদিকে নেগেটিভ হল্টেড মানে হচ্ছে, অনেক বিক্রেতা বা seller আছে যারা ১৮ টাকায় বিক্রি করতে রাজি কিন্তু ক্রেতা বা buyer নেই এই অবস্থাকে বুঝায়। আমাদের বাজারে সাধারনত গড়ে প্রতিদিন ২/৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম হল্টেড হয়।

যখন কোনো একটি কোম্পানির ভালো নিউজ আসে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়, অন্য ব্যবসার সাথে চুক্তি করে, মালিকপক্ষ তাদের শেয়ার ধারন ক্ষমতা বাড়ায়, কিংবা যে কোন ভালো খবরের কারনে পজিটিভ হল্টেড হতে পারে।

এই রকম নিউজ আসলেই যে হল্টেড হবে তা কিন্তু নয়, তবে সম্ভাবনা থাকে। এর বিপরীতে অর্থাৎ, নেগেটিভ নিউজের কারনে নেগেটিভ হল্টেড হতে পারে।

আরো পড়ুন-

শেয়ারের দাম বাড়ে বা কমে কেন

শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন করার উপায় কি

মূলত পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম বিনিয়োগকারীদের উপর নির্ভর করে। যদি একটা শেয়ারে ক্রেতা বা buyer দের চাপ বেশি থাকে তাহলে দাম বাড়ে এবং অন্যদিকে একটা শেয়ারে বিক্রেতা বা sellদের চাপ বেশি থাকে তাহলে দাম কমে। এখন কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করে কোম্পানির পারফরমেন্সের উপরে।

অনেক সময় গুজবের কারনেও নেগেটিভ না পজিটিভ উভয় দিকে হল্টেড হতে পারে। এই গুজবের ভিত্তিতে শেয়ার কেনা/বেচা করলে লাভের বদলে লস হতে পারে। তাই যে কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে যথেষ্ট জেনে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে।

হল্টেড শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্বের প্রায় সকল স্টক এক্সচেঞ্জে আছে, তবে এর আমাদের মত এই রকম না।

যেমন NASDAQ বা New York Stock Exchange এ লেনদেন চলাকালিন সময়ে শেয়ারের দাম ৫ মিনিটের মধ্যে ১০% বা তার বেশি পরিবর্তিত হয়, তাহলে হল্টেড হয়ে যায়। ওখানে হল্টেড না ছাড়া পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন করা যায় না, কিন্তু আমাদের দেশে হল্টেড প্রাইজে লেনদেন করার সুযোগ আগে। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel  



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102