মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

ছাত্র অবস্থায় আয় করতে চাই, সম্ভব?

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৯
ছাত্র অবস্থায় আয়

ছাত্র অবস্থায় আয়

নিজের উর্পাজনের টাকার এক অন্য রকম অনুভুতি আছে, আছে ভিন্ন রকমের প্রশান্তি। প্রত্যেকের মনেই আছে উর্পাজনের ইচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলে আমরা মূলত স্বাধীনতা পাই। এর আনন্দই আলাদা।

নারী পুরুষ সকলেই চাই নিজের উর্পাজন, সক্ষমতা। নিজের আয় করা টাকা সে যত সামান্য হোক না কেন, তার মূল্য অনেক বেশি। আমাদের দেশে একসময় মেয়েদের আয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল।

কিন্তু বর্তমানে মেয়েরা অনেকটাই এগিয়ে। প্রতিটি মেয়ে এখন অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন হতে চায়। ধরতে চায় পরিবারের হাল। পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই তারা।

নিজের স্বামী সংসারের পাশাপাশি বাবা মার প্রতি তাদের কর্তব্য ভুলে যায় না তারা। এটি ছিল যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

আবার পড়াশোনা শেষ করেই আয় করবো এমন ধারণা থেকে ছাত্র সমাজও বেরিয়ে আসছে একটু একটু করে চেষ্টা করছে ছাত্র অবস্থাতেই উর্পাজন করার।

এটিও নিঃসন্দেহে একটি বাংলাদেশের জন্য সফলতার নতুন অধ্যায়।

একটা সময় ছিল যখন মানুষ ভাবত উচ্চ শিক্ষিত না হলে সফল হওয়া যাবে না। আবার ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার কথা কেউ ভাবতও না। যুগ পাল্টেছে, বদলেছে মাুষের ধ্যান ধারনা।

এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন। নিত্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরী হচ্ছে। চাকুরির দিকের চাপটা একটু হলেও কমছে। বসে নেই ছাত্র সমাজ। তারাও চাইছে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে। বাবার টাকায় উচ্চশিক্ষিত না হয়ে তারা বরং নিজের টাকায় পড়াশোনার খরচসহ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায়।

এমন অনেক শিক্ষার্ত্রীকে আমরা দেখি যারা নিজের খরচ নিজেই বহন করে, পরিবারকেও সাহায্য করে। পড়াশোনায়ও রীতেমতো তাদের সফল পদচারনা। আয়ের জন্য তাদের কষ্ট করতে হয় সীমাহীন।

পড়াশোনা, পরীক্ষা, এ্যসাইমেন্ট সামলে নিজের উর্পাজনকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ কথা নয়। নিশ্চয়ই জীবন তাদের এই ত্যাগস্বীকারের মূল্য দিবে সফলতার মুকুট পড়িয়ে।

ছাত্র অবস্থায় অনেকেই আয় করতে চায়। অনেকে পারে, অনেকে পারে না। অনেকেই আছে কিছু করতে চায়। কিন্তু কি করবে সেটা বুঝে উঠতে পারে না।

ছাত্র অবস্থায় আয় করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হল টিউশনি করা। টিউশনি করে অনেকেই বেশ ভাল টাকা আয় করেন। ভাল পড়ানোর ক্ষমতা থাকলে এই শাখায় নিজের চাহিদা তৈরী করা যায় বেশ সহজে।

নিজের সুবিধা মত সময়ে ছাত্র পড়িয়ে আয় করা যায় নিশ্চিন্তে। আয় করার এই মাধ্যমের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। তবে আমরা আজ কথা বলবো টিউশনি ছাড়া আর কিভাবে ছাত্র অবস্থাতেই আয় করা সম্ভব।

১। স্বল্প পুঁজির ব্যবসা

বেশ কিছু ব্যবসা আছে স্বল্প পুঁজির। যেমন পাখি বা খরগোশ পালন, চাপাতার ব্যবসা, টি শার্ট বিক্রি ইত্যাদি। এসব ব্যবসায় আপানকে অনেক বেশি মূলধনের যোগাড় করতে হবে না।

অল্প টাকা দিয়ে শুরু করলে এবং পরিশ্রম করলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে ভাল টাকা আয় করা সম্ভব। খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না।

আর তাই পড়াশোনার ক্ষতিও হয় না। তবে মনে রাখতে হবে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে চাইলে বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে। সুতরাং  কঠোর পরিশ্রমেনর মানসিকতা থাকতে হবে।

২। রিসেইলিং

রিসেইলিংয়ের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে যিনি পণ্য তৈরী করছেন আপনি তার থেকে কিছু পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করবেন কিংবা ছবি নিয়ে কাস্টমারদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন।

আপনি যদি কাস্টমারকে কনভেন্স করিয়ে পণ্য কিনতে রাজি করাতে পারেন তবে পরবর্তীতে যিনি পণ্য তৈরী করছেন তার কাছ থেকে পণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কোন পুঁজি বা মূলধন লাগছে না ব্যবসা করতে।

৩। অনলাইন ব্যবসা

জনপ্রিয়তার তুঙ্গে এখন অনলাইন ব্যবসা। প্রতিযোগিতাও অনেক। টিকে থাকতে পারলে সফলতা অর্জন সম্ভব। এই শাখায় কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জনটাই বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ঘরে বসে সারা বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং ব্যবসা করার এমন সুযোগ আপনিও কাজে লাগাতে পারেন।

৪। কনটেন্ট রাইটিং

ঘরে বসে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী এখন কনটেন্ট রাইটিংয়ের মাধ্যমে আয় করছে। নিজের সুবিধা মত সময়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। তবে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লেখা জমা দিতে হবে।

বর্তমানে কনটেন্ট রাইটিং শেখার জন্য বিভিন্ন স্বল্পশূল্যে কোর্স আছে। এই কোর্স গুলোর মাধ্যমে আপনি আরো বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবেন এই শাখায়।

৫। ইউটিউব

বর্তমানে টিকটক এবং লাইকির ছড়াছড়ি, খুব অল্প সময়ের মধ্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন এসব মানুষ। এই বিষয় নিয়ে ইতিবাচক, নেতিবাচক মনোভাব যাই থাকুক না কেন, মানুষের কাছ পর্য›ত পৌঁছে যাচ্ছেন তারা।

ইউটিউবে নিজের চ্যানেল খুলে আপনি শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরের দর্শক পেতে পারেন। আয়ের পাশাপাশি নিজের পরিচিতিও তৈরী করতে পারবেন। ভাল মানের বিষয় নিয়ে কাজ করলে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

সবচেয়ে বড় বিষয় আপনি আপনার পছন্দের যেকোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারেন। যেমন, আপনি যদি গেইম খেলতে পছন্দ করেন তবে গেমিং চ্যানেল খুলেও আয় করতে পারেন।

আরো পড়ুন –

৬। ক্যাটারিংয়ের কাজ

আমাদের দেশে সাধারণত সব অনুষ্ঠান গুলি শুক্রবারকে কেন্দ্র করে হয়। সেই দিন স্কুল কলেজও বন্ধ থাকে। আপনি চাইলে শুক্রবার দিনটির মাত্র কয়েক ঘন্টা কাজ করে আয় করতে পারেন। কাজ করার সময় মনে রাখতে হবে কোন কাজই ছোট না। আপনি পরিশ্রম করছেন তার বিনিময়ে অর্থ পাচ্ছেন।

৭। হোম ডেলিভারি কাজ

প্রতিনিয়ত বাড়ছে অনলাইন শপ। আবার মানুষ এখন বাসায় বসেই চায় রেস্টুরেন্টর খাবার খেতে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনিও চাইলে আয় করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট ফ্ল্যাক্সিবল এই পেশা।

আপনার সুবিধামত সময়ে আপনি কাজ করার সুযোগ পাবেন। মূলত কমিশন বেসিসে টাকা দেওয়া হয়। সুতরাং আপনি আপনার চাহিদা অনুসারে কাজ করতে পারেন।

৮। নার্সারি ব্যবসা

আপনি যদি গাছ ভালবাসেন তবে নার্সারি ব্যবসার মাধ্যমেও আয় করতে পারেন। বাসায় বসে স্বল্প পরিসরে নার্সারি তৈরী করতে পারেন। নিজের পরিচিত মন্ডল থেকেই কাজ শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কোথাও না গেলেও চলবে। কাস্টার আপনার বাসায় এসেই গাছ সংগ্রহ করতে পারে। বেশ লাভজনক ব্যবসা এটি।

৯। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি

যতই সময় যাচ্ছে প্রযুক্তির ওপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। প্রযুক্তি ছাড়া আমরা একটি মুহূর্তও চলতে পারি না। সুতরাং প্রযুক্তি কেন্দ্রিক আয়ের সুযোগ বাড়ছে।

বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি কাজ করার খুবই জনপ্রিয় মাধ্যম।

তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই শিখতে হবে। নিজেকে আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। ভাল কাজ জানা থাকলে এই মাধ্যম থেকে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।

১০। শেয়ার বাজার

ছাত্ররাও চাইলে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। শেয়ার বাজারেসবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে বিনিয়োগের জন্য টাকার কোন নির্দিষ্ট পরিমান নেই। আপনি চাইলে ১ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন, আবার চাইলে ১ হাজার টাকা দিয়েও শুরু করতে পারেন।

দিনের মাত্র কিছু সময় ব্যয় করে ছাত্ররা চাইলে শেয়ার বাজার থেকে আয় করতে পারে। অন্য যেকোন আয়ের পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে তাকে খুব বেশি সময় দিতে হচ্ছে না।

জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজন অধ্যাবসায়, ধৈর্য্য এবং চেষ্টা। একদিনে সফল হওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত চেষ্টাই মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি যত দ্রুত শুরু করবেন, সফল হওয়া আপনার জন্য তত সহজ হবে।

ছাত্র অবস্থা থেকেই যারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছে, চেষ্টা করছে নিঃসন্দেহে তারা অন্যদের থেকে এগিয়েই থাকবে। খুব দ্রুত সফলতা আসুক পরিশ্রমী এই মানুষগুলোর জীবনে, এটাই প্রত্যাশা। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel  



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি
সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০২১
Designer: Shimulツ
themesba-lates1749691102