শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১৭ অপরাহ্ন

নিজের সম্পর্কে বলুন – ইন্টারভিউ প্রশ্ন ও উত্তর

  • Update Time : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজের সম্পর্কে বলুন

ইন্টারভিউ আমাদের অনেকের কাছেই একটি আতঙ্কের নাম। দ্বিধা, ভয়, জড়তা এসব নিয়ে আমরা অনেকেই এতটাই আতঙ্কিত থাকি যে, জানা প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর আমরা দিতে পারি না। আবার উত্তর জানা না থাকলে ভয়ের পারিমান ক্রমান্বয়ে বেড়ে যায় আমাদের।

ইন্টারভিউতে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করা হয় একজন ব্যক্তির সম্পর্কে জানার জন্য। সৃজনশীল প্রশ্নে যেমন জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতা ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে, ইন্টারভিউ বোর্ডেও একজন প্রার্থীকে তেমন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করা হয়।

সরাসরি জ্ঞান বা কাজের সাথে সংযুক্ত এমন অনেক প্রশ্নের পাশাপাশি বেশ কিছু টেকনিক্যাল প্রশ্ন করা হয়। একটি মানুষের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য। কাজ সম্পর্কে আপনার ধারনা বা জ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি এইসব টেকনিক্যাল প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি কাজ জানেন কিন্তু আপনার মধ্যে যদি যথেষ্ট আত্নবিশ্বাস এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকে তবে জ্ঞানমূলক সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েও আপনি চাকুরি নাও পেতে পারেন। আর তাই ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে নিজেকে মেলে ধরতে হবে পূর্নাঙ্গ রূপে।

বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে সবচেয়ে কমন একটি প্রশ্ন যেটি মানুষ করে তা হল, এসএসসি কত সালে? খুব নির্ভেজাল এই প্রশ্নের মধ্যে কিন্তু লুকিয়ে থাকে অন্য বিষয়।

মূলত সরাসরি বয়স জিজ্ঞেস করা যায় না বলেই কিন্তু মানুষ এমন টেকনিক্যাল প্রশ্ন করে। ইন্টারভিউ বোর্ডেরও সবচেয়ে কমন একটি প্রশ্ন হচ্ছে, “নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন”।

আপাতত দৃষ্টিতে খুব সহজ এই প্রশ্নে উত্তর দেওয়াটা কিন্তু খুব কঠিন। এই সময় নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে পরীক্ষকদের কাছে নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারনা তৈরী করতে পারবেন।

খুবই সর্তকতার সাথে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এটি চমৎকার একটি সুযোগ নিজের সম্পর্কে আলোকপাত করার। এখানে কোন ঠিক বা ভুল নেই। প্রার্থী যা বলবে সেটিই সঠিক। কিন্তু ইমপ্রেস করার একটি অসাধারন সময় এটি। সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন এক্ষেত্রে।

শুনতে খারাপ লাগলেও এটি সত্য যে, ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনি মূলত নিজেকে বিক্রি করতে যান। আপানার পড়াশোনা, দক্ষতা, আপনার কর্মশক্তিকে আপনি বিক্রি করতে চান প্রতিষ্ঠানের কাছে। প্রতিষ্ঠান যাচাই বাছাই করে দেখে যে, তাদের যে চাহিদা আছে আপনি তা পূরন করতে পারবেন কি না।

যেমন অন্যান্য জিনিস আমরা বিক্রি করি বা কিনি। আর তাই বিক্রেতা হিসাবে নিজেকে বিক্রি করতে হলে সর্ব্বোচ চেষ্টা করতে হবে পরীক্ষকদের নিজের প্রতি আকর্ষণ করতে। নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার অন্যতম একটি সুযোগ হল নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন এই প্রশ্নের মাধ্যমে।

নিজের সম্পর্কে বলুন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিন্তু আসলেই কঠিন। আপনার হাতে খুব বেশি সময় থাকবে না। কি কি আপনি বলতে পারবেন এবং কি কি আপনি বলতে পারবেন না সেটি ভাবতে হবে আপনাকে।

ইন্টারভিউয়ের আগেই আপনার উচিত এই প্রশ্নের উত্তর কি কি দিবেন সেটি ঠিক করা। এটি আপনার পূর্ব প্রস্তুতি হওয়া উচিত।

অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ভুল করেন। চলুন জেনে আসি নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে, আমাদের কি কি বলা উচিত এবং কি কি বিষয় বলা উচিত না।

নিজের সম্পর্কে বলুন এই প্রশ্নে যে যে বিষয় বলা উচিত নয়

১। জীবনবৃত্তান্তের হুবুহু তুলে ধরা

অনেকেই ইন্টারভিউ বোর্ডে এই কাজটি করেন তা হল, সিভিতে যা যা আছে সেই বিষয় গুলি ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরেন। এটির কি আদৌও কোন প্রয়োজনীয়তা আছে?

যিনি আপনার পরীক্ষা নিচ্ছেন তিনি আপনার সিভি নিশ্চয় পড়ছেন। আর তাই সেই বিষয় গুলি সব তুলে ধরার দরকার নেই।

বরং আপনি যে পদের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন, সেই পদের সাথে আপনার সিভির সাথে যে যে বিষয়ে সংযুক্ত তার ২/১ টি পয়েন্ট তুলে ধরতে পারেন। প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

২। পরিবার সম্পর্কে বেশি বিস্তারিত বলবেন না

অনেকেই আছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তার বাবা-মা কি করেন, কোন ভাইবোন কোন বড় প্রতিষ্ঠানে আছেন সেই বিষয়ে ব্যাখা করেন। মনে রাখবেন পরীক্ষক আপনার পরিবারের পরীক্ষা নিচ্ছেন না বরং তিনি আপনার সম্পর্কে বেশি আগ্রহী।

আর আপানর কোন ভাইবোন বা আত্মীয়-স্বজন বড় চাকুরি করেন এটি উল্লেখ করার মতো কোন বিষয়ই নয়। আপনি নিজের যোগ্যতা বলেই চাকুরি পাবেন, আপনার পারিবারিক পরিচয়ে নয়।

৩। সময় নষ্ট করবেন না

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক সময় নিবেন না। ২/৩ মিনিটে শেষ করুন। কোন ভাবেই ৫ মিনিটের বেশি নয়। দীর্ঘ উত্তর শোনার মানসিকতা সবার নাও থাকতে পারে।

ফলে নিজের অজান্তেই আপনি তাদের বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারেন। সুতরাং অল্প সময়ে শেষ করাই উত্তম। তবে এত অল্পও বলবেন না যে, মনে হয় আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলার নেই।

৪। অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলা

যেমন আপনি একটি কোম্পানির মানেজার পদের প্রার্থী হিসাবে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, তাহলে এই ইন্টারভিউতে আপনি কি খেলাধূলা করতে বা দেখতে ভালবাসেন এটি অপ্রয়োজনীয় একটি তথ্য বরং আপনি কলেজে পড়াকালীন সময়ে রেড ক্রিসেন্ট বা অন্যান্য সামাজিক সংগঠনে দায়িত্ব সহকারে কাজ করেছেন, এই বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন যা আপনার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতাকে তুলে ধরে।

নিজের সম্পর্কে বলুন এই প্রশ্নে যে যে বিষয় বলা উচিত

১। সক্ষমতা তুলে ধরা

নিজের ভেতরের সক্ষমতা তুলে ধরার দারুন একটি সময় এটি। এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলি সরাসরি সিভিতে উল্লেখ করা যায় না। আপনি এই সময়ে সেই সব বিষয়গুলি তুলে ধরতে পারেন।

সিভিতে উল্লেখিত ২/১ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষ ভাবে তুলে ধরতে পারেন। আপনার নিজের ভিতরের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং যোগ্যতাকে কাজে লাগান।

২। প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য তুলে ধরুন

আপনি কোন বিষয়ে ট্রেনিং করলে বা ক্রেস্ট অর্জন করলে, কিংবা প্রথম হলে সেই বিষয়টি এখানে বলতে পারেন। মনে রাখবেন প্রতিষ্ঠান আপনার প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের প্রতি বেশি আগ্রহী।

৩। অভিজ্ঞতা

পূর্বের কাছের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে পারেন। কিভাবে, কোথায় সেই চাকুরিতে জয়েন করেছেন সেইসব বলবেন না, এর বদলে সেই চাকুরি থেকে আপনার শিক্ষা, প্রাপ্তি বা স্বীকৃতি কি কি সেটি তুলে ধরুন। যেমন, কোন বছর আপনি বেস্ট কর্মী হওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন সেটিও উল্লেখ করতে পারেন।

৪। প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বলুন

আপনি কোন এনজিওর কর্মী পদেও জন্য পরীক্ষা দিতে গেছেন. এই ক্ষেত্রে আপনি যদি নিজের সখের কথা বলতে চান তাহলে কি বলবেন? এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি কি বিষয়ের কাজের জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন।

এনজিও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সুতরাং সেখানে আপনার সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে আপনি উল্লেখ করতে পারেন, মানুষকে সাহায্য করতে আপনার খুব ভাল লাগে।

নিজের এলাকায় বা বন্ধুরা মিলে অসহায় মানুষদের জন্য করেছেন এমন কিছু কাজ উল্লেখ করতে পারেন। আপনার প্রতি কর্মকর্তাদের আগ্রহ তৈরী হবে।

৪। গুন এবং দোষ উভয়ই বলুন

কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। দোষ সবারই থাকে। নিজের গুণ সম্পর্কে বলার সাথে সাথে নিজের কিছু ত্রুটিও তুলে ধরুন। তবে এমন ত্রুটিই উল্লেখ করুন যা আপনার প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারনা তৈরী করে।

যেমন. ত্রুটির মধ্যে উল্লেখ করতে পারেন, আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পছন্দ করেন। আপনার কাছে সময়ের পরে কাজ করা বিরক্তিকর। এজন্য আপনাকে হয়তো অনেক সময় কঠোর বলে মনে হতে পারে।

আপনি নিজের ত্রুটি উল্লেখ্যের মাধ্যমে কিন্তু নিজের একটি সক্ষমতাই তুলে ধরছেন। যেটি একটি প্রতিষ্ঠান তার কর্মীর কাছে প্রত্যাশা করে। আরো পড়ুন – ভাইবা ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতির A to Z

৫। সময়ের প্রতি সচেতন হন

আপনাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটাকে কাজে লাগান। অহেতুক সময় নষ্ট করবেন না। দীর্ঘ সময় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরীক্ষক যদি কোন বিষয়ে অধিক শুনতে আগ্রহী হন, তবে নিজেই প্রশ্ন করবেন। সুতরাং আপনি অতিরিক্ত সময় নিয়ে আপনার প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করবেন না।

ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel 

নিজেকে তুলে ধরা বেশ কঠিন একটি কাজ। আমরা জানি অনেক কিছু, কিন্তু সুন্দররূপে তুলে ধরতে ব্যর্থ হই। ইন্টারভিউ বোর্ডের বেশ কমন একটি প্রশ্ন হল নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন। আর তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া থাকলে চমৎকার ভাবে নিজের প্রতি পরীক্ষকদের ইতিবাচক ধারনা তৈরী করা যায়।



Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102