শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাজার বেসামাল: খুলনায় দিশাহারা মানুষ ধর্ষণের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র গ্রেফতার নিউইয়র্কে বক্তৃতাকালে সালমান রুশদির ওপর ছুরি হামলা টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বার্সালোনা – স্পোর্টস প্রতিদিন শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শেষ ধাপে – মোস্তাফা জব্বার – টেক শহর ডিম, মুরগি ও বাচ্চার আজকের (১২ আগস্ট) বাজারদর | Adhunik Krishi Khamar স্কুল ড্রেস পরে দুর্দান্ত ড্যান্স দিয়ে তাক লাগালো এই ছাত্রী ছাগলের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের চাহিদা | Adhunik Krishi Khamar অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেস্তে আছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম, কথা কাটাকাটিতেই হত্যা

চাকরিতে সন্তুষ্টি পাচ্ছি না, কি করবো?

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
চাকরিতে সন্তুষ্টি পাচ্ছি না, কি করবো?

জীবনে কাজ করেই সফল হতে হবে। এক দিনে কিংবা রাতারাতি কেউ সফল হয়ে ওঠে না। সব সফলতার পিছনের গল্পটি নিদারুণ কষ্টের। প্রতিনিয়ত টিকে থাকার লড়াই, লড়াই স্বপ্ন পূরনের। এক্ষেত্রে নিজেকে কর্মদীপ্ত রাখাটা প্রয়োজনীয়।

কর্ম জীবনে প্রবেশের পর আমরা সকলেই বেশ বড়সড়ো একটা ধাক্কা খাই। এত দিনের স্বপ্ন যেন হঠাৎ থমকে যায়। যে চাকুরির জন্য এত পরিশ্রম, এত কষ্ট, সেখানে প্রবেশ করার পর আমরা বুঝতে পারি দায়িত্বের চাপ।

বদলে যেতে থাকে আমাদের চারপাশ। নতুনদের জন্য সময়টা বেশ কঠিন।

একই সাথে অনেকদিন ধরে যারা কাজ করছেন, তাদেরও অনেক সময় কাজে সন্তুষ্টি আসে না। এর ফলে কাজ করা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।

নিজেকে এমন সময় মোটিভেট রাখা বেশ কঠিন হলেও, খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনে সবকিছু নির্ভর করে আপনার গ্রহণ করার ক্ষমতার উপর। আপনি কতটা, কিভাবে গ্রহন করতে পারছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

ধরুন আপনার আপনার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়েছে। জীবনে চলার ক্ষেত্রে এমন হয়ে থাকে। মতের মিল না হতেই পারে। নিজের স্ত্রী যখন, আপনি নিশ্চয় উত্তেজিত হযে অনেক কথাই বলেছেন।

কিন্তু এখন আপনি ঠিক কত দিন এই ঝগড়ার আমেজ ধরে রাখবেন বিষয়টি আপনার হাতে। আপনি চাইলে ১ মাস ঝগড়ার রেশ ধরে রেখে জীবনটাকে তিক্তায় পরিপূর্ন করতে পারেন, আবার চাইলে ২ দিনেই সব ঝামেলা মিটিয়ে আবার সম্পর্কটাকে নতুন রূপে গড়ে তুলতে পারেন।

আপনার কাছে ইগো না কি আপনাদের সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি ভাবুন এবং ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। অর্ত্যাৎ কোন সমস্যা আপনি কত সময় ধরে রাখবেন, কিভাবে সমাধান করবেন তার উপায় কিন্তু আপনার হাতে আছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই।

জীবনে চলার পথে বাঁধা আসবেই এটাই স্বাভাবিক। এই বাঁধা গুলোই আপনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জীবনে পড়াশোনার মাধ্যমে আমরা যা কিছু শিখি, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু শিখি।

জীবনে সবকিছু পরিকল্পনা অনুসারে হয় না। জীবনে আপনাকে সবসময় নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মন মানসিকতা রাখতে হবে।

এই মন মানসিকতাই আপনাকে বড় কিছু অর্জনের জন্য সাহায্য করবে। কাজে সন্তুষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রায়ই সময় সেটা হয়ে ওঠে না। যখন কাজে সন্তুষ্টি থাকে না তখন কাজটি মনে হয় বিভীষিকার মতো।

আসলে কাজ করার জন্য কোন ইচ্ছাশক্তিই কাজ করে না তখন। এমন অবস্থায় নিজেকে ধরে রাখা বেশ কঠিন। অফিসের কিছু পলিটিক্স থাকে।

সব অফিসেই কমবেশি পলিটিক্স হয়, তোষামোদী চলে। এমন অবস্থায় অযোগ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে যায়, যোগ্য ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়ে।

এসব বিষয়ে কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনি নিজের সবটুকু দিয়েও যখন কাংক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন না, তখন খারাপ লাগতেই পারে। তবে হতাশ হয়ে থেমে গেলে সেটি দিন শেষে আপনারই ব্যর্থতা।

প্রতিনিয়ত যখন নিজের যোগ্যতার মূল্যায়ন পাচ্ছেন না, চাকরিতে সন্তুষ্টি হতে পারছেন না তখন যেভাবে নিজেকে মোটিভেট রাখবেন-

#১। কিভাবে আপনি এগিয়ে যেতে চান সেটি ভাবুন

চাকরি জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ২ টি উপায় আছে। হয় আপনি তোষামোদি করে উপরে উঠবেন, না হয় নিজের কাজের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করবেন। আপনার উত্তর যদি হয় তোষামোদি করে, তাহলে কাল থেকেই সেটি শুরু করে দিন। অপেক্ষাকৃত সহজ কাজ এটি।

তবে তোষামোদি করে আপনি কতটা উপরে উঠতে পারবেন এবং কতদিন সফলতা ধরে রাখতে পারবেন, এই বিষয়ে কিছুটা সন্দেহ থেকেই যায়।

আর যদি আপনি পরিশ্রম আর নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপরে উঠতে চান তবে আপনাকে একটু অপেক্ষা করতেই হবে। তবে আশার কথা হল কোন কোম্পানিই তার কোন বিভাগকেই মেধা শূণ্য করবে না।

সময় একটু বেশি লাগলেও সফলতা আসবেই এবং এই সফলতা অনেক বেশি স্থায়ী।

#২। নিজের নেটওয়ার্ক বাড়ান

কখন কিভাবে কার মাধ্যমে আপনি সুযোগ পাবেন সেটি বলা য়ায় না। আর তাই নিজের পরিমন্ডল বাড়াতে হবে। আপনি নিজের কাজ করার পরিধি এবং ক্ষেত্রের ভিন্নতা আনতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনার একঘেয়েমী দূর হবে এবং আপনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করতে পারবেন।

কাজের পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার জ্ঞানও বৃদ্ধি পাবে এবং একসাথে অনেক ধরনের কাজ করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আপনি আরো আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।

#৩। নিজের বিশ্বাসের সাথে আপোষ করবেন না

প্রত্যেক মানুষের কিছু নিজস্ব বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ থাকে। এই বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

আর তাই নিজের এইসব বিশ্বাসের সাথে কখনো আপোষ করবেন না। যদি করেন তাহলে দিন শেষে আপনি বিষয়টি মানতে পারবেন না, ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাবেন। ফলে কর্মস্পীহা কমে যাবে, কাজে সন্তুষ্টি পাবেন না।

#৪। না বলতে শিখুন

শুধুমাত্র না বলতে না পারার কারনেই আমাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে অনেক কাজ করতে হয়। যার ফলে আমাদের শান্তি উড়ে যায়।

আমরা নেতিবাচক হয়ে পড়ি। সুতরাং যখন প্রয়োজন তখন না বলতে শিখুন তবে শান্ত ভাবে।

আপনার কথায় ঔদ্ধত্য প্রকাশ না পাওয়াই বাঞ্চনীয়, বরং সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বলুন কেন আপনি করতে পারছেন না, বা করতে চাইছেন না।

#৫। রাগ দেখাবেন না

কর্মক্ষেএে কখনোই প্রকাশ্যে আপনি রাগ বা বিরক্তি দেখাবেন না। এই রাগ আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভাল ফলাফল দিবে না।

আপনি যদি রেগে যান তাহলে অপরপক্ষের একটি মানুষের সাথে শুধু সম্পর্ক নষ্ট হবে এমন নয়, বরং অন্য অনেকেই আপনাকে এই রাগের জন্য এড়িয়ে চলবে। যা পরে আপনাকে আরো অনেক বেশি কষ্ট দিবে।

তাই রাগ না দেখিয়ে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

#৬। আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন

অফিস এমন জায়গা যেখানে আমরা দিনের সবচেয়ে বেশি সময়, সম্পূর্ণ সক্রিয় মস্তিস্কে কাটাই।

তাই এখানে পরস্পরের সাথে ভাল সম্পর্ক আমাদের কাজের গতিকে বাড়িয়ে দেয়। চেষ্টা করুন সবার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে, আপনার কাউকে ভাল না লাগলেও, হাসিমুখেই তার সাথে কথা বলুন।

নিজের সমস্যায় যেন আপনি আপনার সহকর্মীদের আপনার পাশে পান। এমন সম্পর্কই গড়ে তুলুন।

সবাই আপনাকে সাহায্য করবে এমন নয়। কিন্তু একজনও যদি আপনার পাশে থাকে, সেটিই অর্জন।

#৭। নিজেকে সময় দিন

সারাদিন কাজের মধ্যে থাকলে বিরক্ত আসবেই। তাই নিজেকে সময় দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শেষ করার মানসিকতা রাখতে হবে।

অতিরিক্ত সময় অফিসে থাকলে আপনি ভাল কর্মী হয়ে যাবেন এবং অনেক কিছু অর্জন করবেন এমন নয়। বরং নিজের প্রিয় মানুষদের সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হবে।

আপনার পরিবারকে সময় দেওয়াও কিন্তু আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বন্ধু বান্ধবরে সাথে সময় কাটালে আপনার উৎফুল্ল লাগবে, কাজে উৎসাহ বাড়বে। তবে অতিরিক্ত আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না।

#৮। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিবেন না

কাজে সন্তুষ্টি না থাকলে আমরা মোটিভেশন হারিয়ে ফেলি, আমাদের মস্তিস্ক তখন সঠিক ভাবে কাজ করে না। ভুল সিদ্ধান্ত নেওযার প্রবণতা বেড়ে যায়।

আর তাই অফিস সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাল করে ভাবুন, সময় নিন। হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রায়ই ভুল প্রমাণিত হয়। সুতরাং ভালো করে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel 

আমাদের অনেকের কাছে জীবন মানেই যন্ত্রণা। তাই তো জীবনের রঙিন দিকটার প্রতি আমাদের এত আগ্রহ। সব কঠিন সময়ের পর সুখের সময় আসে। তাই হতাশ না হয়ে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ধৈর্য্য যার আছে, দীর্ঘস্থায়ী সফলতা তার কাছে ধরা দিবেই।



Source by [সুন্দরবন]]

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ এই ক্যাটাগরি

Recent Posts

সুন্দরবন টোয়েন্টিফোর ডট কম, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২২
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102