রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল শৌর্যে বীর্যে এক মহাকাব্যের নায়ক, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে!

  • Update Time : শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২
মনিরুজ্জামান বাদল

যুগে যুগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের রক্তের বিনিময়েই আজকের ছাত্রলীগের ভীত শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মনিরুজ্জামান বাদলের মত ছাত্রলীগের এমন অনেক নেতাকর্মীদের জীবনের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে ছাত্রলীগের জয়গান। ইতিহাস সৃষ্টি করবার জন্য যাদের জন্ম ছাত্রলীগের সেই কর্মীরাই বুলেটবিদ্ধ শরীরে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়েছেন। শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল তেমনি ছাত্রলীগের এক তেজদৃপ্ত সূর্য।

মনিরুজ্জামান বাদল

মনিরুজ্জামান বাদল

শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বগুণে ছাত্রলীগ যখন সুসংগঠিত হচ্ছিল, ছাত্র রাজনীতি যখন একটি পরিশীলিত অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের জীবনের অন্তীম সূর্য অস্তমিত হয়।

জন্ম ও শৈশব: ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত শরণখোলা উপজেলার এক বনেদী পরিবারে জন্মগ্রহন করেন মনিরুজ্জামান বাদল। শৈশব থেকেই প্রচন্ডো মেধা আর ডানপিটে স্বভাবের হওয়ার কারনে তার মাঝে নেতৃত্ব সুলভ আচারন লক্ষ করা যায়। ১০ ভাই বোনের মাঝে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার মা ছিলেন এলাকার দাপুটে দানশীল ও সম্মানী ভদ্র মহিলা। মানুষ তাকে বড়ো মা নামেই সম্বোধন করতো।

মহান মুক্তিযুদ্ধ: মনিরুজ্জামান বাদল শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পদার্পণ করে। এরই মাঝে দেশ স্বাধীনতার জন্য শোষক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। আলবদর, আল শামস রাজাকাররা শরণখোলা থানা এবং তার পৈতৃক ভিটা দখল করে স্থাপন করে পাকিস্তানি ক্যাম্প!

তারা তাদের বাড়ি ঘর ফেলে অবস্থান নেয় তার দাদু বাড়ি! চারদিকে পিন পতন নিরবতার মাঝে বাদলের মায়ের একটা চিন্তা! বাদল কে কিকরে ঘরে বেধেঁ রাখা যায়, কারন বাদল যে ঘরে থাকার ছেলে নয়। যুদ্ধের দামামা দেখে কিশোর বাদল উতালা হয়ে পরে! বন্ধ ঘরের ভিতরে বসে ফন্দী এটে জানালার শিক খুলে বাদশা মেম্বারের ভাই (মরহুম মোশারেফ) কে নিয়ে রাতের আধারে পুরাতন শহীদ মিনারে (বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাদের কবর স্থানের) সামনে বড়ো একটা খেজুর গাছের সাথে বাঁশ বেধে তার উপরে উড়িয়ে দেয় স্বাধীন বাংলার লাল সবুজ পতাকা!

অবুজ কিশোর বালকের এই অভিনব প্রতিবাদে তখনকার রাজাকার আলবদর বাহিনী হতবাক হয়ে যায়। তার এই দুঃসাহসী প্রতিবাদে তার মা যতোটা না খুশি হয়েছিলো তার চেয়ে ভয় পেয়েছিলো অদিক। কিশোর বাদল কে তার মা গৃহবন্ধী করে রাখলেও মাঝে মাঝে তার বুদ্ধিমত্বায় ঘর থেকে বেড়িয়ে কোনো না কোনো ভাবে তার প্রতিবাদ সে করে যেতো!

পড়ালেখার জন্য খুলনায় যাওয়া: দীর্ঘ ৯ মাস পর দেশ স্বাধীন হবার পর তার বাবার রাজনৈতিক গুরু শেখ মুজিবের আদর্শের প্রতি সে ঝুকে পরে এবং মনেপ্রাণে তার আদর্শ ধারন করে জন্মনেয় এক অপ্রতিরোধ্য মুজিব সৈনিক!লেখাপড়ায় মেধা ভালো থাকার কারনে অচিরেই মাধ্যমিকের গন্ডী পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ভর্তি হন খুলনার সিটি কলেজে। অধ্যায়নরতো অবস্থায় পুরোপুরি মুজিব সৈনিক হিসেবে রাজপথের বুলেট সৈনিক রুপে তার নাম ছড়িয়ে পরতে থাকে! তিনি খুলনার সিটি কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন!

সদ্য ক্ষমতা দখল করা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন জাগদল নামে এক সংগঠন। দেশে জারি করেন এক কালো আইন। (মুজিবের নামের উপর ঠুকে দেন পেরেক) মনিরুজ্জামান বাদল সেই আইনের তোয়াক্কা না করে মুজিব সৈনিকদের নিয়ে নেমে পরেন রাজপথে! স্লোগান, কালো আইন মানি না মানবো না!! স্বৈরশাসকের জাগদলের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করার কারনে গ্রেফতার হয়ে ঠিকানা হয় জেলেখানায়! জেলে থাকা অবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে।

উচ্চমাধ্যমিকের জন্য ঢাকায় যাওয়া: প্রানের শহর খুলনা সিটি কলেজকে বিদায় জানিয়ে ভর্তি হন বাংলার অক্সফোর্ড খ্যাত বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্র বিজ্ঞানে। অচেনা ঢাকার শহরে স্থান হয় (সূর্যসেন হলের ৫২০ নম্বর রুমে) অল্প দিনেই তিনি সূর্যসেন হলের সভাপতি নির্বাচিত হন! তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এক কাঁদে পড়াশুনার বোঝা অন্য কাঁদে মুজিবের আদর্শ কে নিয়ে নেমে পড়ে অচেনা ঢাকার রাজপথে! রাজনীতির সাথে নিজেকে মিশিয়ে হয়ে যায় এক অ অপ্রতিরোধ্য ছাত্রনেতা! এ যেনো শোষিতের মাঝে এক ইস্পাত লোহা! স্বৈরশাসক জিয়ার করা নিষিদ্ধ কালো আইনের বিপরীতে বয়েচলা এক দৃড় প্রত্যয়ী ছাত্র নেতা! যখন একনায়কতন্ত্র এই দেশে মুজিবের নাম নেয়া ও মহাপাপ তখন ঢাকার অলিতে গলিতে রাতের আধারে নিজের টিফিনের টাকা বা কখনও মাসের পুরো খরচার টাকা দিয়ে নিজ হাতে লেখা পোষ্টার লাগিয়ে স্বৈরশাসক জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলেন!

ছাত্রলীগের রাজনীতি: ক্রমন্বয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পরতে লাগলো একটি নাম! বাদল,বাদল,বাদল! ভার্সিটি বন্ধ হলেও তিনি তার নিজ এলাকা শরণখোলায় এসে বন্ধু-বান্ধব কাছের ছোটো ভাইদের উদ্বুদ্ধ করতেন! জিয়ার নিষিদ্ধ কালো আইনের বিরুদ্ধে! তার মা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মতবাদী হওয়াতে কিছুটা উৎসাহ পেলেও মায়ের কড়া শ্বাসন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি! এরই মাঝে ১৯৮১ সালের ১৭ই জানুয়ারি বাংলার মাটিতে পা রাখেন সারা বাংলার জনম দুঃখী মমতাময়ী নেত্রী শান্তির মানস কন্যা শেখ হাসিনা!

সেদিন তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো গুটি কয়েক মানুষের মধ্যে মনিরুজ্জামান বাদল ছিলো অন্যতম! মেধা আর নেতৃত্ব দেবার যাদুকরী যোগ্যতার কারনে জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ছাত্রনেতা রুপে আত্বপ্রকাশ হয়! কথায় আছে (জহুরী মুক্তা চিনিতে ভুল করে না) ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন! কর্মী সংকটময় এই ছাত্রলীগকে প্রান সঞ্চার ঘটিয়ে তিনি তার অক্লান্ত পরিশ্রম আর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান! তখনকার সময়ে ছাত্রলীগ মানে জেল জুলুম অত্যাচার। দিনে দিনে মনিরুজ্জামান বাদলের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত হতে থাকে। পোড় খাওয়া ছাত্রনেতাদের সামনের কাতারে চলে আসে তার নাম!

পবিত্র প্রেম ভালবাসা ও বিয়ে: রাজনীতি পাগল বাদলের শত সমস্যার মাঝে একদিন তার জীবনে ফাগুনের রক্তিমতায় ছেয়ে যায় ছিপ ছিপে গঠনের এক সুন্দরী ললনা! ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ুয়া সেই ললনার ভালোবাসায় সিক্ত বাদল এবার মেঘ ঝড়িয়ে অঙ্কুরিত করলো এক ফুল! যার নাম (সামিমা আরা) অবশেষে প্রেম! পরিনয়ে সমাপ্তি ঘটায় বিয়ের মাধ্যমে! নতুন সংসার আর রাজনীতির প্রবল চাপের মাঝে বয়ে চলে তার জীবন!

বিত্তবান সংসারের সন্তান হবার দরুন মায়ের কাছে আবদার ধরলো ঢাকাতে মাথা গোজার ঠাই হিসেবে এক টুকরো জমি তার চাই! মা ও ভাবলো ছেলে আমার মার সংসারী হয়েছে! আমার জমি যখন মানুষে ভোগ দখল করে! তখন আমার ছেলে কেনো ভাড়া বাড়িতে থাকবে! এই ভেবে তার মা তাকে এক বার নয় দুই বার নয় তিন তিন বার টাকা দেয়! সেই জমি কেনার টাকা দিয়ে সে জমি না কিনে তা বিলিয়ে দিয়েছিলো তার প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে!

তার মা নাকি একদিন হাসির ছলে ঠাট্টা করে বলেছিলো (বাবা বাদল তোর জমি কেনার জন্য তো বেশ কয়েক বার টাকা নিলি) তা এবার ঐ কেনা জমির উপরে বাড়ি করার জন্য টাকা লাগবেনা? বাদল নাকি হেসে বলেছিলো,মা তোমার বাদলের কোনো বাড়ি লাগবে না, বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িই আমার বাড়ি) কে জানে? তার মা কতোটুকু সান্তনা পেয়েছিলো তার জবাবে! তবে এই কথাতে লেখকের লিখতে গিয়ে দু ফোটা অশ্রু ঝরে পড়লো অনিচ্ছা সত্বেও! সামিমা আরা বাদলের কোল জুড়ে আসে নাড়ী ছেড়া এক কন্যা সন্তান! ভালোবাসার এই পরশ পাথরের নাম দেয়, (ঊষান) এরই মাঝে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে উওাল হয় সারা বাংলার রাজপথ! সারাদেশে জারি হয় ১৪৪ ধারা! ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে চলতে থাকে হরতাল অবরোধ! তারাই রেশধরে মনিরুজ্জামান বাদলের নেতৃত্বে প্রতিবাদী সাধারন জনগন পুরো শরণখোলাকে অচল করে দেয়!

আন্দোলন সংগ্রাম ও ছাত্রলীগের কমিটি: শরণখোলা স্বৈরশাসক এরশাদের পেটুয়া পুলিশের নিয়ন্ত্রনেন বাইরে চলে যায়! স্বৈরশাসক এরশাদের পুলিশ বাহিনী তখন বাগেরহাট থেকে রির্জাভ ফোর্স নিয়ে আসে আন্দোলোন কে বানচাল করতে! রির্জাভ ফোর্স আন্দোলোনকে নেতৃত্ব দেওয়া মনিরুজ্জামান বাদলের উপর গুলি বর্ষন করে! রাখে আল্লাহ্ মারে কে গুলি লক্ষোচ্যুতো হলে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি! এরই মাঝে শুরু হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি করার তোড়জোড়! সারা বাংলার তারুণ্যের অহংকার মনিরুজ্জামন বাদল চলে আসে লাইম লাইটে! তৃনমূল থেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে কেন্দ্রে একটা নাম ওঠে, বাদল, বাদল, বাদল ভাই! বাদল ছাড়া উপায় নেই!

মমতাময়ী শেখ হাসিনাও ঠিক করেন বাদল ই হবে ছাত্রললীগের পরবর্তী সূর্য। ১৯৯২ সালের ৯ই জানুয়ারি যখন তেজদিপ্ত সূর্য তার প্রখরতা কমিয়ে দক্ষিনা হাওয়ার সাথে সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আশা শীতের ছোয়া শরীরে শিহরন জাগালো, জনতার উৎসুকতায় ভরা করতালি থামিয়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা, মনিরুজ্জামান বাদলের পিঠে স্নেহের পরশে সাবাস ভরা হাত দিয়ে তিনটি সাবাসি দিয়ে ঘোষনা করলেন, মনিরুজ্জামান বাদল ই হলো তোমাদের ছাত্রলীগের প্রান ভোমরা সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক (এটাই হলো তার জন্য কাল)! উল্যাসে ফেটে পরলো ছাত্রলীগের কর্মীরা! ফুল আর ভালোবাসায় সিক্ত হলো প্রিয় নেতা মনিরুজ্জামান বাদল! কে জানতো এই মনিরুজ্জামান বাদলের নামের আগে বসবে শহীদ উপাদি! কে জানতো রাজপথের বুলেটবোমা জ্বালাময়ী ঐ কন্ঠ নিস্তব্ধো হবে চিরকালের জন্য! ঐ কন্ঠে আর শ্লোগান হবে না (জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু)

যে ভাবে হত্যা করা হয়: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি উপলক্ষে ছাত্রলীগের পূর্নমিলনী অনুষ্ঠান চলছিল তখন বিকাল ৪টা বাজে। শেখানে শেখ হাসিনা বাদলের হাত ও নিজের হাত দিয়ে কবুতর উড়ানো মাধ্যমে প্রগ্রামের শুভ উদ্বোধন করেন। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের উত্তেজনা চলছে, সভা থেকে মনিরুজ্জামান বাদলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মনিরুজ্জামান বাদলের লাশের পাশে দাড়িয়ে রয়েছে পাশে শেখ হাসিনা আপা

মনিরুজ্জামান বাদলের লাশের পাশে দাড়িয়ে রয়েছে পাশে শেখ হাসিনা আপা

শামসুন্নাহার হল থেকে দেখা: শামসুন্নাহার হলের সামনে সেখানে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাল কথার কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে গুলি করার চেষ্টা করলে, তিনি তাদের গুলি না করার জন্য আকুতি মিনতি করেন! এক পর্যায়ে তিনি দৌড় দিয়ে জগন্নাথ টিউটরদের বাসভবনে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, অস্ত্রধারীদের একজন তাকে অনুসরণ করে। মনিরুজ্জামান বাদল ভবনের পেছনে গিয়ে নিচ তলায় ফ্লাটে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসময় ফ্ল্যাটের লোকজন ভয় পেয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন বাদলের আর যাওয়ার জায়গা না থাকায় তিনি তাদের কাছে আটকা পড়ে। তাকে খুব কাছ থেকে বুকের বা পাশে গুলি করে খুন করে তখন সময় অনুমান ৫.৩০ ঘটিকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে যে গুলি করেছে তার পড়নে ছিল নীল জিন্সের প্যান্ট ও জ্যাকেট। এরপরে ভবনের পেছনে এক ঘন্টা বাদলের লাশ পড়েছিল। জগন্নাথ হলের নাইটগার্ড এবং ছাত্রলীগের কিছু কর্মীরা অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে গুলিবিদ্ধ বাদলকে খুঁজে বের করে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে বাদল হত্যার মূল আসামী এমদাদ ও কাজী জসিম উদ্দিন জেসি গ্রেফতার হয়। ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান বাদল হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কাজি জসীমউদ্দীন জেসি ১১ জানুয়ারী শনিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকান্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি করেন।

শামসুন্নাহার হল থেকে দেখা

শামসুন্নাহার হল থেকে দেখা

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান মিয়ার নিকট এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও ৪ জন ছাত্রের নাম প্রকাশ করেছে এরা হচ্ছেন, রাজিব, জাহাঙ্গীর, লিও এবং বিশ্বজিৎ। জেসির সঙ্গে গ্রেফতারকৃত এমদাদ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রলীগের হান্নান – মাসুম গুরুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দলীয় কোন্দল এবং নেতৃত্তের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে, তথ্য দৈনিক বাংলা।

মনিরুজ্জামান বাদল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মৌন মিছিল-দৈনিক ইত্তেফাক।

মনিরুজ্জামান বাদল হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মৌন মিছিল-দৈনিক ইত্তেফাক।

ইতিহাস সৃষ্টি করবার জন্য যার জন্ম তিনি ই ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হন বুলেটবিদ্ব শরিরে! শোকের ছায়া নেমে আসে সারাদেশের ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে! তদন্ত হয় দলিয় ভাবে! প্রিয়য় নেত্রী খুনের পিছে ইন্দোন দাতা অার জড়িতো দের কে অ জীবনের জন্য নিষিদ্ব করেন দল থেকে! অবুজ শিশু কন্য ঊষান হন পিতা হারা দক্ষিন বাংলা হারায় এক অভীবাবক! অামরা হারাই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র!অশ্রু সজল চোখ নিয়ে লাখো মানুষের বুকে ঠাই করে নেয় একটা নাম! এক বাদল লোকান্তরে লক্ষ বাদল ঘরে ঘরে!

শরণখোলার শহীদ মিনারের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হন প্রিয় নেতা প্রিয় মানুষ। (শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল) জননেত্রী শেখ হাসিনা বাদলের মায়ের বুকু মাথা রেখে বলেছিলো? (মা ও মা তোমার বাদল মরেনায় আমি তোমার বাদল) বাদলের সহধর্মীনী ঊষান কে বুকে নিয়ে বলেছিলো আজ থেকে তোমাদের দায়িত্ব আমার! মমতাময়ী নেত্রী কথা রেখেছেন! এবার শুরু হয় বিচার ১৯৯২ সাল থেকে চলতে থাকে বিচার তারিখের পর তারিখ দিন পেরিয়ে মাস গড়িয়ে বছর কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হবার কারনে ধুলো পরা ফাইলের সাথে একদিন অতৃপ্ত আত্বার মতো নিভৃতে কেঁদে নিরবে অবশর নেয় প্রিয় নেতার বিচার!

 

লেখক

মাসুম আলী শাহ্

সংযোজন বিয়োজন ও ছবি সংগ্রহ,

মো. শাওন হোসেন
উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক
বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102