শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

নারী নির্যাতনকারী শনাক্ত করতে পারছে ‘স্মার্টওয়াটার’!

  • Update Time : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
নারী নির্যাতনকারী শনাক্ত করতে পারছে 'স্মার্টওয়াটার'!

ছবি: বিবিসি

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: যুক্তরাজ্যে গৃহনির্যাতন বন্ধের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে স্মার্টওয়াটার নামে একধরনের  তরল ফরেনসিক। নারীদের নিরাপত্তা দিতে দেশটির পুলিশ বিভাগ এই প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করে দেখছে।  ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজনকে দোষী সব্যস্ত করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

এই ফরেনসিক তরলটি চামড়ার মধ্যে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত এবং কাপড়ের ওপর আরো বেশি সময় থাকে।  ইংল্যান্ডের দুইশতাধিক নারীর কাছে এখন এই ফরেনসিক প্রতিরোধক প্যাকেজ রয়েছে। এই প্যাকেজের মধ্যে স্প্রে করার জন্য হাতে ধরার ক্যানিস্টার, ঘরের দরজার হাতল এবং গেটের জন্য জেল এবং একটি স্বয়ংক্রিয় ফাঁদ, যা কেউ ঘরে ঢুকতে চাইলে লিকুইড স্প্রে করে।

ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট লি বেরির মাথায় থেকে এই আইডিয়া বের হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ‘গৃহ নির্যাতনের বিচার করা প্রায় সময়ই অনেক কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অপরাধগুলো ঘরের ভেতরে ঘটে। আমরা যদি ফরেনসিকালি মার্ক করি তাহলে কাউকে গন্তব্যে গিয়েই ট্র্যাক করতে পারি। আমরা জানতে পারি কে ভুক্তভোগি আর কে অপরাধী। আমরা অপরাধীকে বলেছি আপনি যদি ঐ ঠিকানায় ফিরে  যান এবং শর্তাবলী লঙ্ঘন করেন তাহলে আপনাকে ফরেনসিকালি মার্ক করা হবে।’

Techshohor Youtube

গৃহনির্যাতন বন্ধের কৌশলের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার, সাউথ ইয়র্কশায়ার এবং স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশ বিভাগ এই কিট ব্যবহার করছে। এই কিটটি ব্যবহারের জন্য মাসে জনপ্রতি ১৫০ পাউন্ড ব্যয় হয়।

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অপরাধবিষয়ক জরিপে দেখা গিয়েছে, একটি গৃহনির্যাতনের ঘটনা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে পুলিশের প্রায় ৬৪০ পাউন্ড খরচ হয়। প্রতিরোধক হিসেবে ফরেনসিক মার্কিং ব্যবহার করলে প্রতিটি ঘটনার পেছনে ৫০০ পাউন্ড করে সাশ্রয় সম্ভব। গৃহনির্যাতন নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশকে জানিয়েছেন তারা নিরাপদ বোধ করছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেয়া ৯৪ শতাংশ জানিয়েছেন তারা অন্যদেরকেও এই ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা বেরি বলেছেন, ‘আমি সত্যিকার অর্থেই প্রত্যাশা করছি অন্যান্য পুলিশ বাহিনীও এটি ব্যবহার করবে। আরো অনেক ভুক্তভুগীকে আমরা রক্ষা করতে পারব এবং তারা নিজেদের বাড়িতে নিরাপদ বোধ করবে।’

অনেক বছর ধরেই সম্পত্তি রক্ষা ও চুরি ঠেকাতে স্মার্টওয়াটার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মূল্যবান জিনিসের ওপরে এই তরল ছিটিয়ে দেয়া হয় এবং এটি যখন শুকিয়ে যায় তখন তা খালি চোখে দেখা যায় না।  তবে আল্ট্রা ভায়োলেট ল্যাম্প এবং টর্চের নিচে এই তরল ফ্লুরুসেন্ট হলুদ রং হয়ে জ্বলতে থাকে। এভাবেই চুরি যাওয়া কোন মূল্যবান বস্তু শনাক্ত করে উদ্ধার করা যায়। কিন্তু গৃহনির্যাতন বন্ধে এই প্রযুক্তির ব্যবহার একেবারেই নতুন। এই কৌশল ব্যবহার করে আটক ব্যাক্তি তার প্রাক্তন সঙ্গীকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলো। একবার এই ব্যাক্তি যখন ঘরে ঢুকার চেষ্টা করলো তখন জানালা থেকে তার প্রাক্তন সঙ্গী এই স্মার্টওয়াটার স্প্রে করলো। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তারা এই ফরেনসিক লিকুইড দেখে তাকে গ্রেফতার করে। শাস্তি হিসেবে তাকে ২৪ সপ্তাহের কারাদন্ড দেয়া হয়েছিলো।

বিবিসি/আরএপি




Source by [author_name]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102