শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

তেলাপিয়া, পাঙ্গাস এবং শিং মাছের সমন্বিত চাষ | Adhunik Krishi Khamar

  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
মাছ


তেলাপিয়া, পাঙ্গাস এবং শিং মাছের সমন্বিত চাষ ব্যবস্থা বেশিরভাগ মৎস্য চাষিরাই জানেন না। আগের দিনে প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেত। তবে যুগের পরিবর্তনে এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুরে মাছ চাষ করছেন। আবার কেউ কেউ পেশা হিসেবে মাছ চাষকে বেছে নিয়েছেন। চলুন আজকে জানবো তেলাপিয়া, পাঙ্গাস এবং শিং মাছের সমন্বিত চাষ সম্পর্কে-

তেলাপিয়া, পাঙ্গাস এবং শিং মাছের সমন্বিত চাষঃ


চাষের স্থানঃ


পাঙ্গাস মাছ পুকুরে চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যে সব জলাশয় বা পুকুরে ৫-৬ মাস পানি থাকে সেখানে এ মাছ সহজেই চাষ করা যায়। তবে যে সব জলাশয় সহজে শুকানো যায়, প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, উৎপাদিত মাছ ও খাদ্য উপকরণ সহজে পুকুর পাড়ে পরিবহন করার মতো ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পুকুরে পড়ে এরূপ পুকুর নির্বাচন করতে হবে।

সমন্বয় করাঃ


বাংলাদেশে সুষম দানাদার খাবার প্রয়োগ করে ১ বছরে পাঙ্গাসের সঙ্গে তেলাপিয়া, কৈ, গলদা চিংড়ি, শিং ও মাগুর প্রভৃতি মাছ চাষ করে একর প্রতি ৮-১০ টন মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।

পুকুরঃ 


পাঙ্গাস চাষের পুকুর অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুর শুকানোর পর চুন দিতে হবে শতকে এক কেজি হারে। পুকুরের তলদেশে যদি কাদা থেকে যায়, তবে চুন কাদার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। চুন দেওয়ার ৪-৫ দিন পর পানি দিতে হবে।

পোনা মজুদঃ


পোনা মজুদের জন্য পরিচিত মৎস্য খামার থেকে ভালোমানের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া এবং শিং মাছের পোনা সংগ্রহ করতে হবে। সাথে কার্প জাতীয় মাছের পোনা ছাড়তে হবে। চাষের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে ভালোমানের উপযুক্ত আকারের পোনার ওপর। একর প্রতি পুকুরে একসঙ্গে পাঙ্গাসের পোনা ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার, তেলাপিয়ার পোনা ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার, রুইয়ের পোনা ১শ’ থেকে ২শ’, মৃগেলের পোনা ১শ’-২শ’, শিং মাছের পোনা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার চাষ করা যায়।

মাছের খাদ্যঃ 


মাছ যে পরিমাণ খাবার খেতে পারে ঠিক সেই পরিমাণ খাদ্য প্রতিদিন দিতে হবে। আমিষ জাতীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পোল্টি ফিডের খাবার পরিমাণমতো দিতে হবে। যে পুকুরে নিয়মিত পানি পরিবর্তন করা হয়; সে পুকুরের মাছ বেশি খাদ্য খায়। এক্ষেত্রে খাদ্য বেশি দিতে হবে।

সঠিক পরিচর্যাঃ


পানির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য অবস্থা বুঝে পানি আংশিক পরিবর্তন করতে হবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর শতকে ২৫০ গ্রাম হারে চুন ও খাদ্য লবণ একত্রে দিতে হবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না। অক্সিজেনের অভাব হলে পুকুরে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পুকুরের পানি বেশি সবুজ হলে পুকুরে খাদ্য কম দিতে হবে।


আরও পড়ুনঃ তেলাপিয়ার সাথে মলা মাছের চাষ পদ্ধতি


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার



Source by [সুন্দরবন]]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102