শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

মশা নিধনে জানজিবারে ড্রোন ও স্মার্টফোন প্রযুক্তি

  • Update Time : রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
মশা নিধনে জানজিবারে ড্রোন ও স্মার্টফোন প্রযুক্তি

ছবি: বিবিসি

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: ম্যালেরিয়ায় প্রতিবছর চার লাখের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রাণঘাতি এই অসুখ মোকাবিলায় এবার ড্রোন ও স্মার্টফোনের সাহায্য নেয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত এই ড্রোন ও স্মার্টফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে তানজানিয়ার আধা-স্বায়ত্ত্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র জানজিবারে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে।

অ্যাবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ম্যালারিয়া জীবানুবহনকারী মশার বংশবৃদ্ধিকারী পানির পুলের সন্ধান পেয়েছেন। মশার এই বৃদ্ধি ঠেকাতে প্রথমবারের মতো তাদের উদ্ভাবিত ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই দ্বীপপুঞ্জকে ২০২৩ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগমুক্ত করতে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। 

ম্যালেরিয়ার পরজীবি মূলত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ম্যালেরিয়া জীবানু বহনকারী কোন মশা যখন কোন মানুষকে কামড়ায় তখন তা তার রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে ম্যালেরিয়ার বিস্তার ঠেকাতে এই মশা নিয়ন্ত্রন করা খুবই জরুরী। তবে মশার প্রজনন জায়গাগুলো খালি চোখে ভূমি থেকে দেখা যায় না। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সমস্যাটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে সমাধানের চেষ্টা করলেন অ্যাবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফী অ্যান্ড আর্থ সাইন্সের প্রভাষক ড.অ্যান্ডি হার্ডি। তিনি এক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নিলেন।

Techshohor Youtube

এ প্রসঙ্গে অ্যান্ডি হার্ডি বলেন, ‘মাটি থেকে এই বিষয়গুলো দেখা বেশ কঠিন। কিন্তু আপনি যখন সুবিশাল ধান ক্ষেতের ওপর দেখবেন তখন বিষয়টি জীবন্ত হয়ে উঠবে। আপনি দেখতে পাবেন জমির কিছু ধান পানিতে ডুবে রয়েছে কিছু শুকনা। এই প্রযুক্তিটি সত্যিকার অর্থেই ‘গেমচেঞ্জার।’

ড্রোনের মাধ্যমে মাটির ওপর থেকেই নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট ম্যাপ প্রদান করে। ফলে পানিতে থাকা লার্ভাগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মশা হয়ে ম্যালেরিয়া পরজীবি ছড়ানোর আগেই ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।  একে ম্যালেরিয়া নির্মূলের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ প্রযুক্তিকে বেশ ভালোভাবে গ্রহন করেছেন জানজিবারের ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার ফাইজা আব্বাস। তিনি একে ম্যালেরিয়া নির্মূলের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘মশার প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্তকরতে এই প্রকল্পটি খুবই কার্যকর। কিন্তু এটি খুব ব্যয়বহুলও।’  

তিনি আরো বলেন, ‘একটি কর্মসূচি হিসেবে আমরা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ম্যালেরিয়ার প্রশ্ন উঠলে সব প্রজনন কেন্দ্র শনাক্ত করার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সত্যিকার অর্থেই এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি।’

ইনোভেটিভ ভেক্টর কন্ট্রোল কনসোর্টিয়াম (আইভিসিসি) প্রকল্পটির তহবিলয়ান করেছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পটির প্রাথমিক তহবিলায়ন করেছিল (৫০ মিলিয়ন ডলার) বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস।

আইভিসিসির পরামর্শক মার্ক ল্যাথাম বলেছেন, আমি আশা করছি প্রকল্পটি নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে সবার চোখ খোলে দিবে।’

বিবিসি/আরএপি




Source by [author_name]

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Recent Posts

© 2022 sundarbon24.com|| All rights reserved.
Designer:Shimul Hossain
themesba-lates1749691102